Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ADR Report: কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কেন হঠাৎ চর্চায় দেব, সায়নী, জুন মালিয়ারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ADR Report: কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কেন হঠাৎ চর্চায় দেব, সায়নী, জুন মালিয়ারা!
দলবদলে দ্বিতীয় স্থানে বাংলার ২০ সাংসদ।

নয়াদিল্লি: ভারতের রাজনীতিতে ‘দলবদল’ বা আইরাম-গায়ারাম সংস্কৃতি নতুন কোনও নতুন ঘটনা নয়। তবে নির্বাচনের পর পদ ধরে রাখতে বা ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে আইনসভা ও সংসদের প্রতিনিধিরা কী ভাবে দল পরিবর্তন করছেন, তার এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। 

আইআইএম আহমেদাবাদের অধ্যাপকদের গঠিত এই নিরপেক্ষ নির্বাচনী সংস্কারকারী সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১১১ জন বিধায়ক ও সাংসদ তাঁদের দল পরিবর্তন করেছেন। যার মধ্যে সিংহভাগ দলবদলুর গন্তব্য ছিল কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এডিআর এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের যৌথ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে, গত চার বছরে দলবদল করা ১১১ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৬ শতাংশই, অর্থাৎ ২৯ জন যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। 

দলবদলুদের গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও একক দল হিসেবে ব্যক্তি বিশেষকে নিজেদের ছাতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শাসকদলই শীর্ষে। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ) ৩২ জন (২৯ শতাংশ) বিধায়ককে দলে টানলেও, তা ছিল একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ বা মার্জারের ফল, স্বতন্ত্র দলবদল নয়।

এডিআরের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৬ জন লোকসভা সদস্য, ৭ জন রাজ্যসভা সদস্য এবং ৭৮ জন বিধায়ক এই চার বছরে দল বদলেছেন। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে ৩২ জন দলবদলু নিয়ে শীর্ষে নাগাল্যান্ড। এরপরই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (২০ জন)। এছাড়া তেলঙ্গানা থেকে ৯ জন এবং গোয়া ও পঞ্জাব থেকে ৮ জন করে জনপ্রতিনিধি দল বদলেছেন।

তবে এই ১১১টি ঘটনার পেছনে কেবল যে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলত্যাগ রয়েছে, তা নয়। এডিআর জানিয়েছে, এর মধ্যে আইনসভার মার্জার, পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া কিংবা দলবিরোধী আইনের কারণে বহিষ্কৃত হয়ে অন্য দলের প্রতীকে জিতে আসা প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। 

বিজেপিতে যোগ দেওয়া ২৯ জনের মধ্যে ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ এবং ২২ জন বিধায়ক। লক্ষণীয় ভাবে, যে ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই আম আদমি পার্টি (আপ) থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তালিকায় রয়েছে স্বাতী মালিওয়াল, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ কুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং সাহনে এবং রাজিন্দর গুপ্তার মত নাম। এছাড়া গোয়া, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ ও মণিপুরের বেশ কয়েকজন কংগ্রেস ও জেডিইউ বিধায়ক পদ্মফুলে নাম লিখিয়েছেন।

তালিকায় চমক দিয়েছে ট্রাইবাল পার্টি এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া)। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। 

লোকসভায় আইনগত জটিলতা এড়াতে তাঁরা একযোগে প্রায় অপরিচিত এনসিপিআই-এর সঙ্গে নিজেদের দলকে মার্জ করে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে, সর্বাধিক জনপ্রতিনিধি হারিয়েছে এনডিপিপি (২৫ জন), তৃণমূল কংগ্রেস (২০ জন) এবং কংগ্রেস (১৯ জন)।

এই অবাধ দলবদল রুখতে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আমূল সংস্কার দাবি করেছে এডিআর। লোকসভার স্পিকার বা বিধানসভার অধ্যক্ষের বদলে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের হাতে (নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে) দলত্যাগীদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদ ও ব্যক্তিগত লাভের চর্চা’ বন্ধ করে নীতি ও আদর্শের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #ADRReport #PoliticalDefection #BJP #IndianPolitics #DefectionLaw #TMC #Congress #NationalistPolitics #BreakingNewsBengali #IndianElections

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ADR Report: কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কেন হঠাৎ চর্চায় দেব, সায়নী, জুন মালিয়ারা!

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ভারতের রাজনীতিতে ‘দলবদল’ বা আইরাম-গায়ারাম সংস্কৃতি নতুন কোনও নতুন ঘটনা নয়। তবে নির্বাচনের পর পদ ধরে রাখতে বা ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে আইনসভা ও সংসদের প্রতিনিধিরা কী ভাবে দল পরিবর্তন করছেন, তার এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। আইআইএম আহমেদাবাদের অধ্যাপকদের গঠিত এই নিরপেক্ষ নির্বাচনী সংস্কারকারী সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ১১১ জন বিধায়ক ও সাংসদ তাঁদের দল পরিবর্তন করেছেন। যার মধ্যে সিংহভাগ দলবদলুর গন্তব্য ছিল কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপি।গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এডিআর এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের যৌথ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে যে, গত চার বছরে দলবদল করা ১১১ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মধ্যে ২৬ শতাংশই, অর্থাৎ ২৯ জন যোগ দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি)। দলবদলুদের গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও একক দল হিসেবে ব্যক্তি বিশেষকে নিজেদের ছাতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শাসকদলই শীর্ষে। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ) ৩২ জন (২৯ শতাংশ) বিধায়ককে দলে টানলেও, তা ছিল একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ বা মার্জারের ফল, স্বতন্ত্র দলবদল নয়।এডিআরের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৬ জন লোকসভা সদস্য, ৭ জন রাজ্যসভা সদস্য এবং ৭৮ জন বিধায়ক এই চার বছরে দল বদলেছেন। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে ৩২ জন দলবদলু নিয়ে শীর্ষে নাগাল্যান্ড। এরপরই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (২০ জন)। এছাড়া তেলঙ্গানা থেকে ৯ জন এবং গোয়া ও পঞ্জাব থেকে ৮ জন করে জনপ্রতিনিধি দল বদলেছেন।তবে এই ১১১টি ঘটনার পেছনে কেবল যে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলত্যাগ রয়েছে, তা নয়। এডিআর জানিয়েছে, এর মধ্যে আইনসভার মার্জার, পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া কিংবা দলবিরোধী আইনের কারণে বহিষ্কৃত হয়ে অন্য দলের প্রতীকে জিতে আসা প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়া ২৯ জনের মধ্যে ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ এবং ২২ জন বিধায়ক। লক্ষণীয় ভাবে, যে ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই আম আদমি পার্টি (আপ) থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তালিকায় রয়েছে স্বাতী মালিওয়াল, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ কুমার পাঠক, বিক্রমজিৎ সিং সাহনে এবং রাজিন্দর গুপ্তার মত নাম। এছাড়া গোয়া, গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ ও মণিপুরের বেশ কয়েকজন কংগ্রেস ও জেডিইউ বিধায়ক পদ্মফুলে নাম লিখিয়েছেন।তালিকায় চমক দিয়েছে ট্রাইবাল পার্টি এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া)। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর দলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। লোকসভায় আইনগত জটিলতা এড়াতে তাঁরা একযোগে প্রায় অপরিচিত এনসিপিআই-এর সঙ্গে নিজেদের দলকে মার্জ করে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে, সর্বাধিক জনপ্রতিনিধি হারিয়েছে এনডিপিপি (২৫ জন), তৃণমূল কংগ্রেস (২০ জন) এবং কংগ্রেস (১৯ জন)।এই অবাধ দলবদল রুখতে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আমূল সংস্কার দাবি করেছে এডিআর। লোকসভার স্পিকার বা বিধানসভার অধ্যক্ষের বদলে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের হাতে (নির্বাচন কমিশনের পরামর্শক্রমে) দলত্যাগীদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। রাজনীতিতে ‘সুবিধাবাদ ও ব্যক্তিগত লাভের চর্চা’ বন্ধ করে নীতি ও আদর্শের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত