মালদহ: এক মুসলিম জমিদার, একটি স্বপ্নাদেশ আর নদীতে ভেসে আসা একটি কাঠামো। আর তার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ৩৩৩ বছরের পুরনো এক দুর্গাপুজোর ইতিহাস। আজও সেই পুজোয় বদলায়নি প্রতিমা তৈরির পুরনো নিয়ম। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও ধরে রাখা হয়েছে সেই ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতির বার্তা।কথিত আছে, প্রায় ৩৩৩ বছর আগে এক রাতে এক মুসলিম জমিদার জুহুর খান স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে নির্দেশ দেন, নদীতে ভেসে আসা ওই কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে দুর্গাপুজো শুরু করতে। সেই নির্দেশ মেনেই শুরু হয় পুজো। পরে কয়েক বছর পর পুজোর দায়িত্ব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে তুলে দেন তিনি। সেই ইতিহাসই আজও বয়ে নিয়ে চলেছে মালদার রতুয়া মাড়োয়ারিপাড়ার ‘রতুয়া বারোয়ারি দুর্গাপুজো’। এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল, আজও কালিন্দ্রী নদীতে ভেসে আসা কাঠামোর উপরই প্রতিমা তৈরির প্রথা রয়েছে।শুধু পুরনো রীতিই নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সম্প্রীতির ছবিও। [TECHTARANGA-POST:13464]পুজোর বিভিন্ন আয়োজন ও কাজে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নেন। অর্থাৎ ৩৩৩ বছর আগে যে পুজোর সূচনায় এক মুসলিম জমিদারের ভূমিকা ছিল, আজও সেই পুজোকে ঘিরে একসঙ্গে থাকেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের সহযোগিতায় বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো। তাই রতুয়ার এই দুর্গোৎসব শুধু ৩৩৩ বছরের পুরনো একটি পুজো নয়, বরং ইতিহাসের সঙ্গে মিশে থাকা সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।