কলকাতা: জীবনে কখন কী পরিস্থিতি আসে, কেউ বলতে পারে না। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যেতে পারে সব হিসেব। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত বিমানের ককপিটে এমনই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন পাইলট স্মিত মচ্ছর। আচমকাই হামলার শিকার হন তিনি। ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। কিন্তু ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং বিপদের মধ্যেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। সেই ঘটনার পর এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হলেন ভারতীয় পাইলট। তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। উড়ন্ত বিমানের ককপিটে ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী ছিলেন মচ্ছর। হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্যে ছিলেন। মাথার খুলির ভাঙা একটি অংশ মস্তিষ্কের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরবে জরুরি অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। মাথার খুলির পুনর্গঠনও করা হয়। তবে এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।
বুধবার তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ সেকেন্ড’। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই সম্মান প্রদান করেন দুবাইয়ের রাজকুমার শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। সম্মানিত করা হয়েছে ওই বিমানে থাকা আরও দুই পাইলটকেও।
স্মিতের দৃঢ় মনোভাব এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালনের মানসিকতার জেরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন স্মিত। তবে সাহসিকতার স্বীকৃতি অবশ্য এখানেই থেমে থাকছে না। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজোগও তাঁকে সে দেশের সর্বোচ্চ সাহসিকতা সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণও পেয়েছেন ভারতীয় পাইলট।
Leave a comment