দুবাই: মাঝআকাশে তখন সওয়ারি রয়েছে প্রায় ১৮০ জন জীবনমুখী মানুষ। বিমানটি ছুটছে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ককপিটের ভেতরে নেমে এল এক ভয়ংকর বিভীষিকা। সহ-পাইলটের ধারালো অস্ত্রের হামলায় মাথার খুলি ফেটে চৌচির হয়ে গেল ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের। সম্প্রতি তাঁর সেই ক্ষতবিক্ষতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। মৃত্যুর দুয়ার থেকে দু’-দু’বার অলৌকিকভাবে ফিরে আসা এই বীর পাইলটের অদম্য সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু হঠাৎই ককপিটের ভেতরে সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হামামি ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর। শুধু মাথায় কোপ দেওয়াই নয়, পেটেও মারাত্মক আঘাত করা হয়। বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিচে ফেলে দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছিল ওই হামলাকারী। কিন্তু অসীম সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় নিজের শেষ বিন্দু দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রক্তাক্ত স্মিত। তাঁর এই তাৎক্ষণিক বীরত্বেই সেদিন রক্ষা পায় শত শত নিরীহ প্রাণ।
তবে লড়াইটা কেবল মাঝআকাশেই শেষ হয়নি। সহ-পাইলটের কোপে স্মিতের খুলির হাড় মারাত্মকভাবে বসে গিয়েছিল এবং মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে কোনও মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু হতে পারত। এরপর দ্বিতীয় ধাক্কা আসে হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে। চিকিৎসকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অতিরিক্ত রক্তপাত রোধ করে ভেঙে যাওয়া খুলির পুনর্গঠন করা। দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে ফিরে আসেন স্মিত।
এই চরম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ মঙ্গলবার স্মিত মচ্ছরকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। খোদ দেশের প্রেসিডেন্ট এই ভারতীয় পাইলটের মাথার ক্ষতচিহ্ন দেখে শিউরে ওঠেন এবং তাঁর সঙ্গে উষ্ণ সৌজন্য বিনিময় করেন। স্মিতকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার বার্তা দিয়ে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মজার ছলেই বলেন, সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁরা দু’জনে মিলে জু-জিৎসু মার্শাল আর্টের সেশন করবেন, যা ওই দেশের জাতীয় খেলা। ৩৪ হাজার ফুট ওপরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা এক ভারতীয় পাইলটের এই রক্তক্ষয়ী বেঁচে ফেরার গল্প এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
Leave a comment