•
Home বিশ্ব Poland constitutional crisis: কার হাতে থাকবে আইন? উত্তাল পোল্যান্ড, গদি বাঁচাতে সেনেগাল থেকে দেশে রাষ্ট্রপতি
বিশ্ব

Poland constitutional crisis: কার হাতে থাকবে আইন? উত্তাল পোল্যান্ড, গদি বাঁচাতে সেনেগাল থেকে দেশে রাষ্ট্রপতি

Share
মধ্যরাতে পোল্যান্ডের রাস্তায় সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
Share

ওয়ারশ: পুলিশি ঘেরাটোপে থাকা আদালত চত্বর, ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং মাঝ আকাশ থেকে রাষ্ট্রপতির আকস্মিক সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসা। 

এক নজিরবিহীন ও তীব্র সাংবিধানিক সংকটে কেঁপে উঠল পোল্যান্ড। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এই রাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বর্তমান ডোনাল্ড টাস্কের প্রো-ইউরোপীয় সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল ‘ল ও জাস্টিস’ (PiS)-এর দীর্ঘদিনের সুপ্ত লড়াই এবার চরম বিস্ফোরণ ঘটাল। 

আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বিক্ষোভকারীদের পুলিশি প্রতিরোধের মুখে পড়ার ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। দেশের এই জটিল ও ঘোরালো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গোটা ইউরোপের নজর এখন ওয়ারশর দিকে। 

পোল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী ভালদেমার জুরেকের সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপে এই সংঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে। সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের সভাপতি বোগদান শিয়েজকোভস্কি এবং সহ-সভাপতি বারতোমিজ সোচানস্কির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করতে তাঁদের আইনি সুরক্ষা (immunity) কেড়ে নেওয়ার আবেদন জানান জুরেক। 

বর্তমান শাসকদলের অভিযোগ, পিআইএস সরকারের আমলে নির্বাচিত এই দুই শীর্ষ বিচারক নতুন সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত বিচারপতিদের এজলাসে প্রবেশে বাধা দিচ্ছিলেন এবং ট্রাইব্যুনালের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিলেন। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনালের ওয়েবসাইটে শিয়েজকোভস্কির স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরেই ওয়েবসাইটটি হঠাৎ রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে জল্পনা আরও চরমে ওঠে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে অবশ্য বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘অভ্যুত্থান’ (coup d’etat) বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দেশের শীর্ষ মহলে। পিআইএস সমর্থিত পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন যুব অলিম্পিক গেমসে যোগ দিতে মাঝ আকাশে ছিলেন। 

কিন্তু দেশের মাটিতে সাংবিধানিক সংকটের তীব্রতা আঁচ করতে পেরে তিনি মাঝপথেই তাঁর বিদেশ সফর বাতিল করে অবিলম্বে ওয়ারশতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট নাভরোকি লেখেন, ‘‘এই ধরনের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির পোল্যান্ডেই থাকা উচিত। আমি সেনেগালের বিমান যাত্রা সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসছি।’’ তার পরেই রাজধানীতে পা রেখেই বিচার বিভাগের অচলাবস্থা কাটানোর তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

পোল্যান্ডে এই বিচার বিভাগীয় দ্বন্দ্বের শিকড় বেশ গভীরে। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা পিআইএস সরকার বিচারব্যবস্থায় বেশ কিছু বিতর্কিত পরিবর্তন এনেছিল, যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও স্থানীয় মহলে প্রবল আপত্তি উঠেছিল। 

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালত এর আগে রায় দিয়েছিল যে, পূর্ববর্তী সংসদের মেয়াদকালে পিআইএস সরকারের জমানায় নিযুক্ত তিন জন বিচারপতি অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

২০২৩ সালে ডোনাল্ড টাস্ক ক্ষমতায় আসেন দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিন্তু পরবর্তী দুই রাষ্ট্রপতি, নাভরোকি এবং তাঁর পূর্বসূরি আন্দ্রেজ দুদা, তাঁদের ভিটো ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারের সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব আটকে দেন। এমনকি নাভরোকি মার্চ মাস থেকে সংসদের নির্বাচিত পাঁচ জন বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাতে অস্বীকার করায় সাংবিধানিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

আগামী বছরেই পোল্যান্ডে নির্ধারিত রয়েছে নতুন সংসদীয় নির্বাচন। তার আগে বিচারব্যবষ্টার দখল নিয়ে সরকারের অতি-সক্রিয়তা এবং বিরোধীদের তীব্র প্রতিরোধ দেশের রাজনীতিকে এক চরম মেরুকরণের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 

একদিকে টাস্কের সমর্থকরা পুরোনো জমানার প্রভাব নির্মূল করতে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশের সংবিধানকে পদদলিত করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। সব মিলিয়ে, এক নজিরবিহীন সংঘাতের জাঁতাকলে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *