কুলটি: মাত্র এক টাকার বিনিময়ে ব্র্যান্ডেড হেডফোন পাওয়ার অফার!
আর সেই লোভেই রবিবার সকালে যে ছবি তৈরি হল, তাকে কার্যত অপ্রতিরোধ্য জনজোয়ার বলা চলে। ছুটির দিনে রবিবার সকালে এক টাকায় হেডফোন কেনার লোভনীয় অফারকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে এমন এক তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল, যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও।
আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির অন্তর্গত নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোডের প্রিয়া মোড় সংলগ্ন একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকানের এই বিশাল অফারকে কেন্দ্র করে যে হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধে, তাতে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দোকানের শাটার নামিয়ে দিতে হয় কর্তৃপক্ষকে। শুধু তাই নয়, তীব্র ট্রাফিক জট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় নিয়ামতপুর ট্রাফিক পুলিশকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ছুটির সকালে এই ইলেকট্রনিক্স বিপণন সংস্থাটি মাত্র এক টাকায় হেডফোন দেওয়ার এক চোখ ধাঁধানো আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করেছিল। আর এই খবর চাউর হতেই আসানসোল ও কুলটি সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ এসে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রিয়া মোড় সংলগ্ন ওই দোকানের সামনে।
সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় এত দীর্ঘ হয়ে যায় যে তা কয়েকশো গজ ছাড়িয়ে যায়। দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই এক টাকায় হেডফোন লুফে নেওয়ার জন্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে যায় এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় যে, ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে দিতে হয় কর্তৃপক্ষকে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি-জালে এবার বীরবাহাও? অজিত গ্রেফতার হতেই চাকরির প্রতারণায় কি খুলছে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’!
দোকানের সামনে এই অস্বাভাবিক ভিড় ও হুড়োহুড়ির জেরে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যস্ত নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোড। রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচলতি মানুষ এবং অন্যান্য যানবাহন চালকরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় নিয়ামতপুর ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির বিশাল বাহিনী। পুলিশ এসে প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং মাইকিং করে ভিড় হটানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু গোলমাল শুধু ভিড় সামলানোতেই আটকে থাকেনি।
অনেক ক্রেতা ও বাইক আরোহী তাড়াহুড়োয় তাঁদের মোটরসাইকেল বা বাইকগুলি যেখানে-সেখানে রাস্তার ওপর যত্রতত্র পার্ক করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এর ফলে যানজট আরও চরমে ওঠে। ট্রাফিক পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে যত্রতত্র বাইক দাঁড় করিয়ে রাখার অপরাধে বেশ কয়েকজন গ্রাহককে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে।
প্রাথমিক তদন্তে এবং ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই ধরনের বিশাল জনসমাগম বা অফার চালুর আগে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি।
সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং পুলিশকে না জানিয়ে এই অফার দেওয়ায় শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে এত বড় একটা ঘটনার পরেও অভিযুক্ত খোশলা ইলেকট্রনিক্স সংস্থার কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য বা সাফাই মেলেনি।
ছুটির সাকলে মাত্র এক টাকায় হেডফোন কেনার এই উন্মাদনা শেষ পর্যন্ত পুলিশি জরিমানা এবং দোকান বন্ধের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলেও, এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক চমক কীভাবে জনজীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।
Leave a comment