কলকাতা: আগামী পুরভোটের আগেই কলকাতা পুরনিগমের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে নজিরবিহীন তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে জমা পড়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিলোত্তমার ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে বাড়িয়ে মোট ২০৯টি নতুন ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় শহরে সংযোজিত হতে চলেছে ৬৫টি নতুন ওয়ার্ড। জনসংখ্যা ও এলাকার ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই ছোট ছোট ওয়ার্ডে ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, তাড়াহুড়ো না করে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সমস্ত খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।
জমা পড়া খসড়া রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার একাধিক বড় বিধানসভা এলাকা ভেঙে নতুন ওয়ার্ডের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কসবা এলাকায় বর্তমান ৬টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ১৭টি, যাদবপুরে ১০টি থেকে ১৬টি এবং টালিগঞ্জে ৯টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে বেহালা পূর্বে ১১ থেকে ১৬, বেহালা পশ্চিমে ১০ থেকে ১৭, মানিকতলায় ৬ থেকে ১১ এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়াতেও ৬ থেকে বাড়িয়ে ১১টি ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জনসংখ্যা সামঞ্জস্য রাখতে চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো ও শ্যামপুকুরের মতো পুরনো কলকাতায় বিদ্যমান ১১টি করে ওয়ার্ড কমিয়ে ৮টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিটি নতুন ওয়ার্ডে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রেখে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান বৈষম্য তুলে ধরে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, একই অর্থবরাদ্দ পেয়েও বিশালাকার ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের পরিষেবা দিতে কালঘাম ছুটত, যা এবার দূর হবে। এমনকি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও ভোটার সংখ্যার অসম বণ্টন দূর করে সঠিক পুনর্বিন্যাসের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। ভোট নির্দিষ্ট সময় ডিসেম্বরেই হবে জানিয়ে পুরমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনিক কাজ সময়মতো শেষ করে স্বচ্ছতার সঙ্গেই নির্বাচনে নামবে রাজ্য।
[TECHTARANGA-POST:11492]
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
Leave a comment