25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home Uncategorized Donald Trump: রুশ তেল কেনার অপরাধ! বন্ধু মোদীর মাথায় ১০০ শুল্কের বোঝা ট্রাম্পের
Uncategorized

Donald Trump: রুশ তেল কেনার অপরাধ! বন্ধু মোদীর মাথায় ১০০ শুল্কের বোঝা ট্রাম্পের

Share
Donald Trump: রুশ তেল কেনার অপরাধ! বন্ধু মোদীর মাথায় ১০০ শুল্কের বোঝা ট্রাম্পের
আইন করে ভারতের উপর শুল্ক চাপাল আমেরিকা। ছবি : সংগৃহীত
Share

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: দোস্তি এক জায়গায়, আর স্বার্থ অন্য জায়গায়। 

আরও একবার তা পরিষ্কার করে দিল হোয়াইট হাউস। শত চাপ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনার ‘অপরাধে’ এবার ভারতের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা হাতে তুলে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়া বিতর্কিত ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে শুক্রবার স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে বিলটি এখন মার্কিন সংবিধানে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হল। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে ‘বন্ধু’ নরেন্দ্র মোদীর দেশের উপর এবার কার্যত অর্থনৈতিক চাপের বড়সড় খড়্গ ঝুলিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন।

ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছর অতিক্রান্ত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন বাহিনীর ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে মস্কোর আয়ের মূল উৎস বন্ধ করতে মরিয়া ওয়াশিংটন। কিন্তু পশ্চিমি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই দিল্লি মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি জারি রেখেছে। মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে ও গ্রাহাম যে বিলটি আনেন, তাতে সাফ বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে যারা জ্বালানি কিনছে, তারা আসলে পরোক্ষে ইউক্রেনে রক্তক্ষয়কেই অর্থ সাহায্য করছে। 

বিলটির সংসদীয় প্রক্রিয়া চলাকালীন সেনেটর গ্রাহামের মৃত্যু হলে তাঁর স্মরণে বিলটিতে নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সইয়ে তা আইনি রূপ পেল। নতুন এই আইন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার এক্তিয়ারের বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে ডেমোক্র্যাট বা বিচারবিভাগীয় কোনও জটিলতায় ধাক্কা না খেতে হয়।

তবে বিলে সই হওয়া মানেই যে রাতারাতি ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চেপে বসল, তা নয়। আইনটি প্রেসিডেন্টকে স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতার অধিকারী করেছে। তিনি চাইলে ভারত-সহ চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আজারবাইজান, কাজাখস্তান বা স্লোভাকিয়ার মতো রুশ তেল ক্রেতা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারবেন। 

বর্তমানে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্প যদি এই আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেন, তবে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যে মোট মার্কিন শুল্কের পরিমাণ এক ধাক্কায় ১১২ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছাতে পারে। 

উল্লেখ্য, রাশিয়াকে সরাসরি ভাতে মারতে তাদের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞার সংস্থানও রাখা হয়েছে এই আইনে।

এর আগে ট্রাম্প একতরফাভাবে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি হেঁটেছেন আইনি ও গণতান্ত্রিক পথে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বাজারে ভারতের বস্ত্র, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা ও রত্ন রপ্তানি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভয়াবহ ধাক্কা খেতে পারে, যা ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী ছায়া ফেলবে।

নয়াদিল্লি অবশ্য ইতিমধ্যেই এই মার্কিন হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্র সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। 

কোনও বহিরাগত অর্থনৈতিক চাপ বা কূটনৈতিক চোখরাঙানির মুখে নয়াদিল্লি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বিসর্জন দেবে না। সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন নয়াদিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছেন। এখন দেখার, সংঘাতের এই আবহে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে চলা ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাঁর ‘বন্ধু’ মোদীর উপর কতটা শুল্কের বোঝা চাপান।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *