জামুই ও নয়াদিল্লি: টিউশন সেরে স্কুটারে চেপে ফিরছিল দুই নাবালক-নাবালিকা।
মাঝপথে পথ আটকে তাঁদের হেনস্থা, মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। বিহারের জামুইয়ের এই মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তোলপাড় গোটা দেশ। তবে জল আরও ঘোলা হল এলাকার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্রেয়সী সিংয়ের এক বিতর্কিত মন্তব্যে। আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে ‘নীতি পুলিশগিরি’ বা মোরাল পলিসিং-এর পক্ষে পরোক্ষে সাফাই গেয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন অলিম্পিয়ান শুটার তথা বিজেপি নেত্রী।
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ৩৫ বছর বয়সী এই বিজেপি বিধায়ক। জামুইয়ের ঘটনাটির নিন্দা করলেও তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘নীতি পুলিশগিরি বা মোরাল পলিসিং আরও কিছুটা ভদ্র এবং শালীন উপায়ে করা যেত। কিন্তু ছেলে ও মেয়েটির সঙ্গে যেভাবে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। সমাজে কারোর জীবনযাত্রা বা চালচলন নিয়ে অন্যের মতামত থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশের একটা ভাল উপায় থাকা উচিত।’’
জনপ্রতিনিধি হয়ে অপরাধের সাফাই এবং ‘শালীন নীতি পুলিশগিরি’-র তত্ত্ব খাড়া করায় সঙ্গে সঙ্গেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘‘তাহলে এর পর কি এটাই শুনতে হবে যে, সহিংস না হয়ে শালীনভাবে ধর্ষণ করলেও তা ঠিক?’’ আম আদমি পার্টি ও আরজেডি-ও একযোগে তোপ দেগেছে বিজেপি নেতৃত্বের রাজনৈতিক শিক্ষার উপর।
জনশক্তি জনতা দলের প্রধান তেজ প্রতাপ যাদব ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘বিহারে এখন কেউই নিরাপদ নন। ওটা ওদের ব্যক্তিগত বিষয় ছিল, ছেলে-মেয়ে দুটি যেখানে খুশি যেতেই পারে।’’ অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধায়ক শ্রেয়সী সিংহ পরে দাবি করেন, তিনি কোনও আইনি ফাঁকফোকর রাখবেন না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। মারওয়া পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া দুই পড়ুয়াকে ঘিরে ধরে জনাছয়েক যুবক। চরম নির্যাতন চালিয়ে নাবালিকার শ্লীলতাহানি করা হয় এবং সেই ভিডিও নেটপাড়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে বিহার পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব ও তার সঙ্গী হরেকৃষ্ণ যাদব গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেফতার হয়।
অন্যদিকে, চরম অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়ে আক্রান্তদের ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে অলআউট অভিযানে নেমেছে বিহার পুলিশ। পকসো আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করে নাবালকদের পরিচয় প্রকাশ করায় ইতিমধ্যেই ১২০টি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
বিহার পুলিশের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, পকসো আইনের ২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী আক্রান্তের পরিচয় প্রকাশ করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন ভাঙলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে। ভিডিও ছড়ানো বন্ধ করতে ও অপরাধীদের রেয়াত না করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।
Leave a comment