কলকাতা: শেষ মুহূর্তে আদালত বড় কোনও হস্তক্ষেপ না করলে নভেম্বরের প্রস্তাবিত কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ভোট পিছিয়ে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূচি মতো এগোলে আগামী ২০ ডিসেম্বর হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত এই পুরভোট। তবে এসআইআর (SIR) সংশোধনের জেরে এক লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন থাকায় বিরোধীদের প্রবল তোপের মুখে পড়ে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই এখন এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
কমিশন সূত্রে খবর, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের জেরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রায় ১০০টি বুথে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র স্থানান্তরের কাজ চূড়ান্ত না হওয়াই এই সম্ভাব্য বিলম্বের মূল কারণ। মঙ্গলবার আলিপুরের ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে কমিশনের আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে আলিপুর ও কলকাতার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আধিকারিকরা জানান, ১ নভেম্বর পর্যন্ত তালিকায় ওঠা নামের ভিত্তিতে আগামী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
এর পরেই জারি হবে নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি। আইনানুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ভোটগ্রহণের জন্য অন্তত ২৫টি কার্যদিবসের প্রয়োজন। মাঝে ছটপুজোসহ একাধিক ছুটি থাকায় ২০ ডিসেম্বরের আগে ভোট করা বাস্তবে অসম্ভব। কলকাতার সঙ্গেই হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং ও কার্শিয়াং পুরসভাতেও এই দফাতেই ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
তবে এই খসড়া তালিকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিশেষ করে মমতার দল তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম সর্বদলীয় বৈঠকে একসুরে দাবি করেছে, কলকাতার ১ লক্ষ ৩০ হাজার এবং হাওড়ার ৩৯ হাজার বৈধ ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় তড়িঘড়ি ভোট করানো হচ্ছে।
তাঁদের দাবি, শাসক বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কমিশন এই বেআইনি সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রতিনিধি চিত্তরঞ্জন দে জানান, কমিশন আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সময় দিয়েছে এবং বিজেপি যে কোনো সময়েই নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি গড়িয়েছে আইনি দরবারে। পুরভোট নিয়ে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি রয়েছে বুধবার (২৮ অক্টোবর)। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি মেনে যদি ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের পথ পুরোপুরি খোলা রাখতে হয়, তবে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কমিশনকে। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের সম্ভাব্য সূচি আগামী বছরের গোড়ায় পিছিয়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে। যার মধ্যে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশের বিজেপি-তে যোগ দিয়ে পদ্ম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জল্পনা তুঙ্গে। তবে বুথ পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং আইনি টানাপোড়েনের জালে জড়িয়ে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন নজর আলিপুর ট্রেজারি ও আদালতের দিকেই।
Leave a comment