নয়াদিল্লি: দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে আশঙ্কাজনক আশ্রয়ে থাকার পর এবার বাংলাদেশ রাজনীতিতে বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এবং দেশটির বিপন্ন সংবিধান রক্ষার তাগিদে সরাসরি রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বহাল রেখে আইনি সিলমোহর দেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ মুজিব-কন্যা। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ তদন্তকারীদের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে তিনি বাংলাদেশে অবিলম্বে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
হাসিনার স্পষ্ট অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের এই একপেশে সিদ্ধান্তের ফলে সে দেশের মূল সংবিধান মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু কিংবা সার্বিক ছিল না। আওয়ামি লিগকে সম্পূর্ণ নির্বাচনের বাইরে রাখার ফলে দেশের এক বিশাল অংশের ভোটাররা নিজেদের রাজনৈতিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এই বেআইনি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে যাতে দলের কর্মী-সমর্থকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারেন, সেজন্য তাঁদের ওপর টানা হামলা চালিয়ে ভয় দেখিয়ে বাধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও চিঠিতে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক হিংসা ও আতঙ্কের আবহের মধ্যেও দেশে ফেরার ব্যাপারে নিজের অদম্য মানসিকতার কথা আবার প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমি আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরে যাব। আমি কোনো কিছুতেই ভয় পাই না। আমি খুব ভালোভাবেই জানি যে ওরা আমাকে হত্যা করতে পারে, গ্রেপ্তার করতে পারে কিংবা অমানুষিক নির্যাতন চালাতে পারে, কিন্তু নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া আমার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব।” উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে এখনো চোরা টানাপোড়েন বজায় রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশে ক্ষমতায় বসার পর থেকে একাধিকবার পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও ভারতের মাটিতে এখনো পা রাখেননি নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই গরম আবহে হাসিনার রাষ্ট্রসংঘের চিঠি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
Leave a comment