কলকাতা: কালীপুজো মানেই আলো, প্রদীপ আর বাজির উৎসব। এই পুজোর সঙ্গে একসময় ওতপ্রোত জড়িয়ে ছিল শ্যামাপোকা। উৎসবের সময় ঘরের ভেতরে থেকে বাইরে সর্বত্র দল বেঁধে হাজির হত তারা। কখনও দেখা যেত টিউবলাইটের চারপাশে ঘুরপাক খেতে, আবার কখনও চোখে, কানে কিংবা নাকে ঢুকে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠত। গত কয়েক বছরে সেই ছবিটায় বদল এসেছে। কালীপুজোর সময় আলো জ্বলছে, বাজি ফাটানো হচ্ছে কিন্ত শ্যামাপোকার সেই পুরনো ভিড় আর চোখে পড়ছে না। কোথায় হারিয়ে গেল শ্যামাপোকারা?
শ্যামাপোকারা যে বিলুপ্তপ্রায় তা বলা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় শ্যামাপোকার উপস্থিতি কমে যাওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, কৃষিকাজে কীটনাশকের ব্যবহার এবং কৃত্রিম আলোর প্রভাব সবক’টি বিষয়ই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পতঙ্গের জীবনচক্র অনেকটাই নির্ভর করে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপর। ঋতুর পরিবর্তন হলে প্রজনন, ডিম ফুটে বাচ্চা বেরনো কিংবা পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলে। কালীপুজোর সময় আবহাওয়ার ধরন বদলে যাওয়াও শ্যামাপোকার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হয়।
অনেক পতঙ্গের জীবনচক্রের সঙ্গে কৃষিজমি ও আশপাশের উদ্ভিদের সম্পর্ক রয়েছে। চাষের জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে পতঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খাবারের জোগান কমে যাওয়া কিংবা প্রজননের যথোপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার প্রভাবও তাদের উপর পড়তে পারে। ফলে কৃষিজমিতে রাসায়নিকের ব্যবহার শ্যামাপোকার মতো পতঙ্গের সংখ্যা কমার সম্ভাব্য কারণগুলির একটি হতে পারে।
এবার আসা যাক শ্যামাপোকা কম দেখা যাওয়ার পিছনে কৃত্রিম আলোর ভূমিকায়। উৎসবের রাতে জ্বলে থাকা বিভিন্ন ধরনের আলো বহু পতঙ্গের স্বাভাবিক চলাচল ও দিক নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। আগে মাটির প্রদীপ কিংবা হলদেটে আলোর আশপাশে যে দৃশ্য দেখা যেত। কিন্তু এখন সেখানে এলইডি ও উজ্জ্বল আলোর ব্যবহার বেড়েছে। তবে শুধু আলোর ধরন বদলেই শ্যামাপোকার সংখ্যা কমেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
Leave a comment