লখনউ: নীরব মোদী-মেহুল চোক্সীর হাজার হাজার কোটি টাকার মহা দুর্নীতিতে নড়ে গিয়েছিল এই ব্যাঙ্কের ভরসা ভিত। সেই রেশ কাটার আগে ফের খবরের শিরোনামে সেই পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)।
এবার স্থান গ্রোটার নয়ডার আইচ্ছার গ্রাম। কঙ্কালসার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং সুরক্ষার নগ্ন চেহারা প্রকাশ করে পিএনবি-র একটি শাখা থেকেই গ্রাহকদের চোখের সামনে গায়েব হয়ে গেল প্রায় ৩৫ কোটি টাকা! আমানতকারীদের জমানো সঞ্চয়, জমি অধিগ্রহণের কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ, নিমেষের মধ্যে শূন্যে পরিণত হয়েছে সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) অ্যাকাউন্ট।
ঘটনার সূত্রপাত গ্রোটার নয়ডার আইচ্ছার এবং পিয়াই-১ সেক্টর সংলগ্ন পিএনবি শাখা থেকে। একের পর এক আমানতকারী পাসবই আপডেট করতে কিংবা টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের সারাজীবনের জমানো সঞ্চয় উধাও।
যে অ্যাকাউন্টে কালকেও কোটি টাকা ছিল, সেখানে আজ শুধুই ‘জিরো ব্যালেন্স’! অথচ, গ্রাহকদের কারও মোবাইলে টাকা কাটার কোনও বার্তা (এসএমএস) আসেনি, কেউ কোনও চেকে সইও করেননি। গ্রোটার নয়ডার বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়া ষাটোর্ধ্ব প্রৌঢ়া সন্তোষ কিংবা বীরোন্ডার কৃষক বীজেশদের চোখ ছানাবড়া।
ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার মধ্যে সাকুল্যে অবশিষ্ট পড়ে রয়েছে কয়েক হাজার টাকা। একই ভাবে হানিফ খানের ৩৯ লাখ টাকা, বিজেন্দ্র সিংয়ের ৮৭ লাখ টাকা এবং জাকির নামে এক গ্রাহকের সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার গভীরতা বুঝতে পেরেই ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রতারিত গ্রাহকরা। জানা গিয়েছে, ভিনীত ভাটি নামের এক পরিবহণ ব্যবসায়ী ব্যাংকে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে গিয়ে এই চক্রের খোঁজ পান।
তাঁর সই করা চেকে ব্যাংকেরই অন্য এক ভুয়া অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই একে একে ১৮ জনেরও বেশি গ্রাহক বেটা-২ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রায় ১৬টি আনুষ্ঠানিক পুলিশি অভিযোগ জমা পড়ার পরেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসে পিএনবি-র নয়ডা আঞ্চলিক কার্যালয়। সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে ওই শাখার ব্যাংক ম্যানেজারসহ পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মীকে। তাঁদের স্থানে বসানো হয়েছে নতুন কর্মী। একই সঙ্গে অ্যান্টি-করাপশন টিম এবং পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নাকি কোনও ডিজিটাল জালিয়াতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও ব্যাংকের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে গ্রাহকদের সমস্ত টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তবু নীরব মোদী কাণ্ডের ক্ষত আবার উস্কে দিয়ে পিএনবি-র বিশ্বাসযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে। কোটি কোটি টাকার জমানো সম্পদ হারিয়ে সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চৌকাঠ কি আদৌ আর সুরক্ষিত?
Leave a comment