কলকাতা: কালীপুজো মানেই আলো, বাজি আর উৎসবের আনন্দ। ছোট থেকে বড়ো সকলেই বাজি ফাটানোর আনন্দে মেতে ওঠেন। অনেকে আবার শব্দবাজি থেকে দূরে থেকে উৎসবের রাতে ফানুস ওড়াতে পছন্দ করেন। কিন্তু অসতর্কতার কারণে উৎসবের আনন্দই বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই কালীপুজোর আগেই বিশেষ সতর্কবার্তা দিল পুলিশ প্রশাসন।
কালীপুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও প্রশাসনের বৈঠকের পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক হয়। ফানুস কিংবা এয়ার বেলুন ওড়ানো থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ বাজির ব্যবহার, সব ক্ষেত্রেই কিছু নিয়ম মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানিয়েছেন, লাইসেন্স ছাড়া ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই এ ধরনের সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা জরুরি।
এছাড়াও শব্দবাজির ব্যবহার কমাতে জোর জোর দেন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। তিনি বলেন, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রমের মতো নীরব এলাকায় কোনও শব্দবাজি ফাটানো যাবে না। মূলত সাইলেন্ট জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি ফাটানোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে নীরবতা বজায় রাখতে হবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বাজির বাজারেও নজরদারি চালানো হবে। নিষিদ্ধ বাজির বিক্রি ও ব্যবহার রুখতে চলবে লাগাতার অভিযান। কালীপুজোর দিনগুলিতে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা থাকবে। জায়গায় জায়গায় টহলদারিও চলবে। কোথাও নিষিদ্ধ বাজি ব্যবহার বা নিয়ম ভাঙার ঘটনা নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য কন্ট্রোল রুম চালুর কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব। বাজি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে সেখানে জানাতে পারবেন নাগরিকেরা। তবে প্রশাসনের কড়াকড়ির পাশাপাশি মানুষের সচেতনতার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “নিজের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।”
Leave a comment