কলকাতা ও নয়াদিল্লি: ভোটের অধিকার রক্ষা এবং সংবিধান বাঁচানোর দাবিতে আগামী রবিবার, ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বসতে চলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র হাইভোল্টেজ মেগা সমাবেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবিতে এই আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
আর এই পরিস্থিতিতেই রবিবার গোটা দেশের রাজনৈতিক নজর আটকে রয়েছে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। সমাবেশে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি এবং সোশাল মিডিয়ায় তাঁর ঝাঁজালো আহ্বান ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোট লুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তাঁদের মূল অভিযোগ, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ নিয়ে একপেশে ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন, যা নজিরবিহীনভাবে গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফা দাবি করে লাগাতার প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী জোট। এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ দেখাতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয়েছিল রাহুল গান্ধীসহ একাধিক হেভিওয়েট নেতাকে। কিন্তু তাতেও দমে না গিয়ে আগামী রবিবার ফের রামলীলা ময়দানে বিশাল জনসভার ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’।
সমাবেশের দিন যতই এগোচ্ছে, ততই পারদ চড়ছে। এই লড়াইয়ে সর্বস্তরের মানুষকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক জোরালো বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘‘আর চুপ থাকবেন না। ভোটাধিকারই যখন লুটের মুখে, তখন তা নিয়ে চুপ থেকে লাভ নেই। বরং আসুন, গণতন্ত্র আর সংবিধান বাঁচাতে হাতে হাত ধরে দাঁড়াই।’’
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যে ভোট চুরির জবাব চাইছে সাধারণ মানুষ। তাই কেবল রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, বরং পড়ুয়া, যুবসমাজ, নারী শক্তি এবং সমাজের প্রতিটি বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীকে রবিবারের এই ঐতিহাসিক মিছিলে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
মমতার পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও দলমত নির্বিশেষে দেশের সমস্ত ছাত্র ও যুব সংগঠনকে রবিবারের ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিওবার্তায় পুলিশি দমনপীড়ন বা লাঠিচার্জকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দিয়ে রাহুল বলেন, ‘‘এটা কোনও নির্দিষ্ট দলের লড়াই নয়, এ দেশের সংবিধান ও ভোট রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই। বিজেপির আর পুলিশ দিয়ে আন্দোলন থামানোর সাহস থাকবে না।’’
সাম্প্রতিক অতীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির কর্মসূচিতে পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও রবিবার বিরোধী জোটের এই মহাসমাবেশে সমস্ত শক্তির ঐক্যবদ্ধ রূপ দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
রবিবারের এই প্রতিবাদ সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি বাংলার রাজনীতি ছাপিয়ে জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের ভিতকে আরও কতটা পোক্ত করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। রামলীলা ময়দানের মঞ্চ থেকে মমতা ও অন্য বিরোধী নেতারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কী বার্তা দেন এবং নির্বাচন কমিশনকে কতটা কোণঠাসা করতে পারেন, রবিবারই তার অগ্নিপরীক্ষা।
Leave a comment