ঝাড়গ্রাম: গভীর রাতে দরজায় ঘনঘন ধাক্কা, চোখের পলকে শাবলের কোপ মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ল পুলিশ! বৃহস্পতিবার রাত ২টো নাগাদ ঝাড়গ্রামের প্রবীণ মমতা তৃণমূল নেতা তথা গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রার্থী অজিত মাহাতোকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করল পুলিশ। রাতদুপুরে পুলিশের এই অতর্কিত অভিযানে একমুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঝাড়গ্রাম এলাকায়। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবার বাসিন্দা সজল দাস নামে এক ব্যক্তি অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চার দফায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন এই তৃণমূল নেতা। কিন্তু বছর গড়িয়ে গেলেও মেলেনি চাকরি, আর টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে সজলবাবুকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হতো বলে অভিযোগ। এই নালিশের ভিত্তিতেই আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গভীর রাতে সোজা নেতার বাড়িতে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং অজিতকে গ্রেফতার করে। শুক্রবারই তাঁকে ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবে পুলিশ।
অন্যদিকে, পুলিশের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ধৃত নেতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, কোনো আইনি নোটিশ না দিয়েই মাঝরাতে শাবল দিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে বলপ্রয়োগ করে অজিতবাবুকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে নামলেও বিজেপির রাজেশ মাহাতোর কাছে বিপুল ভোটে হারতে হয়েছিল অজিতকে। দলীয় বিভাজনের মাঝেও কালীঘাটপন্থী বলে পরিচিত এই নেতার হঠাৎ গ্রেফতারিতে বর্তমানে তোলপাড় জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহল।
Leave a comment