কলকাতা: সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ভরসা নাকি স্রেফ ভুয়ো কাণ্ড কারখানা? স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প ঘিরে উঠে এল এমনই এক অবিশ্বাস্য তথ্য, যা শুনে আঁতকে উঠছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। বিগত আমলের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তথ্য মেলানো শুরু করতেই সামনে এল এক ভয়ঙ্কর কারচুপি। দেখা যাচ্ছে, নথিপত্রে নাম থাকলেও বাস্তবে খোঁজ মিলছে না ৩০ লক্ষেরও বেশি স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার! সূত্রের খবর, এই সব অলীক উপভোক্তাদের নামে পরিষেবা দিতে গিয়ে রাজ্য কোষাগার থেকে জলবৎ গলে গিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্তাদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে।
ঘটনার সূত্রপাত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং রাজ্যের ‘মুখ্যমন্ত্রী বিমা যোজনা’র অধীনে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলাকালীন। বর্তমান সরকার যখন সাধারণ মানুষের তথ্য পুনর্মূল্যায়ন ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ডের সত্যতা যাচাই করতে শুরু করে, তখনই থলের বেড়াল বেরিয়ে পড়ে। প্রশাসনিক কর্মীরা উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছাতেই দেখেন, নথিতে উল্লেখিত বহু মানুষের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। সরকারি তালিকায় যাদের নাম নথিভুক্ত, তাঁদের অধিকাংশই ভূতুড়ে উপভোক্তা! কেবল স্বাস্থ্যসাথীই নয়, বিগত সরকারের মেয়াদে এমন আরও বহু জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পে ভুয়ো তালিকা তৈরি করে টাকা হাতানোর বড় চক্র কাজ করত বলে সন্দেহ নবান্নের আমলাদের।
এই বিশাল আর্থিক অপচয়ের হাত থেকে রাজ্যকে বাঁচাতে ইতিমিধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে বর্তমান প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে দিনের পর দিন অস্তিত্বহীন মানুষদের নামে বিমার টাকা তুলে ভুয়ো বিল পাস করানো হতো, তার শিকড়ে পৌঁছাতে তৎপর শীর্ষকর্তারা। ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অপচয়ের পিছনে কারা যুক্ত ছিল, সেই দুর্নীতির জাল গুটিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি অর্থ নয়ছয়ের এই ঘটনার পর নবান্নে যে বড়সড় রদবদল ও তদন্তের ঝড় উঠতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
Leave a comment