কলকাতা: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে। কিন্তু উৎসবের আমেজ কাটেনি। কালীপুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। আর তারপরই জগদ্ধাত্রী পুজো। জগদ্ধাত্রী পুজো বলতেই সবার আগে মনে পড়ে চন্দননগরের কথা। বিশালাকার প্রতিমা, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা আর উৎসবের টানে প্রতি বছরই হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় এখানে। তবে এবার সেই ভিড় সামলানো এবং পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর অন্যতম আকর্ষণ থাকে সাবেকি প্রতিমা ও আলোকসজ্জা। সেই টানেই ভিনরাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসেন। বিপুল জনসমাগম সামলাতে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে, তাই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
এছাড়াও বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের জন্য থাকছে রিভার ক্রুজে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ। নির্দিষ্ট প্যাকেজের মাধ্যমে বাবুঘাট থেকে ক্রুজে চেপে চন্দননগর পর্যন্ত যাত্রা করতে পারবেন পর্যটকরা। প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে তাঁদের মণ্ডপে নিয়ে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করানোর পর ফের আগের জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে চন্দননগরের সরু গলিতে চলবে বাইক অ্যাম্বুল্যান্স। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বিশেষ অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মিলবে মণ্ডপের রুট ম্যাপ, যান চলাচলের হালনাগাদ তথ্য এবং জরুরি হেল্পলাইন নম্বর।
দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের সুবিধার জন্য বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হবে সেবাকেন্দ্র। বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও থাকবে কড়া নজরদারি। জগদ্ধাত্রী পুজো ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। বুধবার পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Leave a comment