কলকাতা: হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভুটানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর চরম আশঙ্কার কালো মেঘ কেটে গেল উত্তরবঙ্গে! ভুটান থেকে নেমে আসা সঙ্কোশ নদীর হড়পা বানের কোপে বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিল বাংলার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার একাংশ। তবে প্রশাসন ও সরকারের সময়োচিত ও যুদ্ধকালীন তৎপরতার ফলে শেষ পর্যন্ত বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সল্টলেকে এক জনমুখী কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তরবঙ্গের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টতই আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, আপাতত ভয়ের কোনো কারণ নেই এবং উত্তরবঙ্গের সমস্ত মানুষ সম্পূর্ণ নিরাপদেই রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাতের সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তগুলির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভোররাত চারটে পর্যন্ত আমাদের পুলিশ সুপার, মন্ত্রী, বিধায়কেরা সকলে মিলে জেগে কাজ করেছেন। নবান্নের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গেও টানা যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক অবস্থায় কিছু মানুষকে নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে। সঙ্কোশ নদী বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়েই শান্তভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। এমনকি যাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই ৪৭ জন সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলায় হিমবাহ গলা জল জমে তৈরি হওয়া বিখ্যাত ‘শিন্তাফু’ হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে হঠাৎই নেমে আসে তীব্র হড়পা বান। জলের সেই প্রচণ্ড তোড়ে ভুটানের বিখ্যাত গাসা তশাচুর অঞ্চলের বহু ইমারত ও উষ্ণ প্রস্রবণ নিমেষে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF)-এর জেরে সৃষ্ট সেই জলের তোড় ভুটানের মোফু ও মফু নদীর হাত ধরে সোজাসুজি নেমে আসার কথা ছিল সঙ্কোশ নদীর দিকে। এর জেরে অসম এবং উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ভুটান সরকারের সতর্কবার্তামতোই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম সহ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি আতঙ্কিত মানুষকে তড়িঘড়ি নিরাপদ ত্রাণশিবিরে সরিয়ে আনা হয় এবং তাঁদের জন্য শুকনো খাবার ও পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত করা হয়। তবে শুক্রবার সকালে নদীর জলস্তর না বাড়ায় এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় অবশেষে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষ ও রাজ্য প্রশাসন।
Leave a comment