হ্যামিল্টন, ৩১ অক্টোবর: অকল্যান্ডে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন কৌশল ভারতের ড্রেসিংরুমে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, রবিবারের শেষ তথা পঞ্চম ম্যাচে নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে নেমে কোনও আত্মতুষ্টি রাখতে নারাজ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
হ্যামিল্টনের ছোট মাঠ সেডন পার্কে জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রথম একাদশে একাধিক বড় পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক। ধারাবাহিক অফ-ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসনকে বাইরে বসিয়ে তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী ব্যাটার গ্লেন ফিলিপসের ব্যাটে লাগাম পরানো এবং স্পিন বিভাগের কৌশল পুনর্মূল্যায়নই এখন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অকল্যান্ডের হারের ধাক্কা ভারতীয় শিবিরের একাদশের স্বস্তিতে কিছুটা হলেও ঝাঁকুনি দিয়েছে। বিশেষ করে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্রাইস্টচার্চে ৬৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলার পর থেকে ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসন।
পরবর্তী তিন ম্যাচে তাঁর রান যথাক্রমে ১৪, ১৮ এবং ৪। তাঁর এই ধারাবাহিক রানখরা থিঙ্কট্যাককে ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নিজের সাম্প্রতিক ফর্মও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লখনউয়ে কেরিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতরান হাঁকানোর পর থেকে শেষ আট ইনিংসে তাঁর রান ৪০, ১,১৬, ২২, ৪২, ৭, ৫ এবং ২২। আসন্ন ওয়ান ডে সিরিজের আগে অধিনায়কের ব্যাটে একটি বড় ইনিংসের অপেক্ষায় থাকবে ভারতীয় শিবির।
আরও খবর: নিউজিল্যান্ড সফরের বড় রদবদল, প্রসিধের জায়গায় আকিব নবি
স্পিন বিভাগে বৈচিত্র্য আনতে দুই রিস্ট-স্পিনার কুলদীপ যাদব এবং বরুণ চক্রবর্তীকে মাঠে নামানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। তবে কুলদীপ বা বরুণকে খেলাতে গেলে বাদ পড়তে হবে অলরাউন্ডার নমন ধীরকে, যার ফলে ভারতের ব্যাটিং ডেপথ্ কমবে এবং পার্ট-টাইম অফ-স্পিনের বিকল্পও হারাবে দল।
নিউজিল্যান্ড কিন্তু অকল্যান্ডে বিশাল জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। কিউইদের ব্যাটিংয়ের প্রধান কান্ডারি গ্লেন ফিলিপস অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন। চলতি সিরিজে ৪ ম্যাচে ২৭ গড়ে তাঁর সংগৃহীত রান ২৭৬।
২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মার্ক চ্যাপম্যানের ২৯০ রানের পর নিউজিল্যান্ডের কোনও ব্যাটারের এক দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে এটিই সর্বোচ্চ রান। এমনকি ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ফিল সল্টের করা ৩৩১ রানের অল-টাইম বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে ফিলিপসের প্রয়োজন আর মাত্র ৫৬ রান। অকল্যান্ডে অর্ধশতরান হাঁকানো মাইকেল ব্রেসওয়েলও ভারতীয় বোলারদের কাছে চরম উদ্বেগের কারণ হতে পারেন।
দুই দলের দুই প্রধান বাঁ-হাতি স্পিনারের পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার যেখানে সঠিক লেংথে বল করে ভারতীয় ব্যাটারদের চেপে ধরেছেন, সেখানে ভারতীয় অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেল তুলনামূলক দ্রুত ও খাটো লেংথে বল করে রান গলিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্যান্টনার ৫৫ শতাংশ ফুল-লেংথ বল করেছেন, যেখানে অক্ষর প্যাটেল ৭২ শতাংশ বল শর্ট ফেলেছেন। সেডন পার্কের ছোট বাউন্ডারিতে বাঁ-হাতি স্পিনারদের এই দ্বৈরথই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।
১ নভেম্বর ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হতে চলা এই মহারণে ভারত ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ পকেটে তোলে নাকি কিউইরা ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে আনে, এখন সেদিকেই চোখ ক্রিকেট বিশ্বের।
Leave a comment