হ্যামিলটন: চোট আর অফ-ফর্মের মেঘ কাটিয়ে হ্যামিলটনের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যেন এক ঝোড়ো ইনিংসে বসন্ত ডেকে আনলেন ঈশান কিষাণ!
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের শাসন করে সেডন পার্কে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের নামটাও সোনার অক্ষরে খোদাই করে নিলেন ভারতের এই বাঁ-হাতি উইকেটকিপার-ব্যাটার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ঝোড়ো ৬১ রানের ইনিংস খেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এর পাশাপাশি মুখোমুখি হওয়া বলের নিরিখে ভারতের তৃতীয় দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে এই বিশ্বরেকর্ডের নজির গড়ে ফেললেন বাঁ-হাতি এই হার্ডহিটার।
সিরিজের প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচে যথাক্রমে ১ এবং শূন্য রানে আউট হওয়া এবং চোটের কারণে মাঝের দুটি ম্যাচে মাঠের বাইরে বসে থাকার পর, হ্যামিলটনে রবিবাসরীয় ম্যাচে ঈশানের ব্যাটে ছিল জবাব দেওয়ার তাগিদ।
ম্যাচে নামার আগে ২,০০০ রান পূর্ণ করতে তাঁর প্রয়োজন ছিল ঠিক ৪৫ রান। ড্রেসিংরুমের চাপ এবং কিউই বোলারদের তীক্ষ্ণ আক্রমণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৩২ বলে ৬১ রানের যে বিধ্বংসী ইনিংস তিনি উপহার দিলেন, তাতে ছিল পাঁচটি বিশাল ছক্কা এবং সমসংখ্যক চার।
নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ স্পিনার মিচেল স্যান্টনারকে হেলিকপ্টার শটে মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে নিজের ২০০০ রান পূর্ণ করেন ঈশান, আর তার পরপরই এক অনবদ্য ছক্কা হাঁকিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ১৪তম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, বল খেলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা (১০২৪ বল) এবং ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’ সূর্যকুমার যাদবের (১১৬৪ বল) পরেই দ্রুততম ২০০০ রান করার তালিকায় তিন নম্বরে জায়গা করে নিলেন ঈশান কিষাণ।
এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ঈশানের লেগেছে ঠিক ১৩৪৫টি বল। আধুনিক ক্রিকেটের বিস্ফোরক যুগে ভারতের এই তিন তারকার এমন চোখ ধাঁধানো পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের পাওয়ার-হিটিং কোন্ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্লেয়ার টিকনারের বলে স্কয়ার লেগে নাথান স্মিথের হাতে ধরা পড়ার আগে হ্যামিলটনের ছোট বাউন্ডারিকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন তিনি।
এর আগে, পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে এই প্রথমবার টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে একাদশে ফেরেন ভুবনেশ্বর কুমার ও বরুণ চক্রবর্তী, বাদ পড়েন ময়ঙ্ক যাদব ও অক্ষর প্যাটেল। কিউই দলেও ম্যাথিউ ফিশারের জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয় ব্লেয়ার টিকনারকে।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, ঠিক সিদ্ধান্তেই বিশ্বাসী গৌতম!
তবে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ পকেটে পুরে ফেলা ভারতের সামনে হ্যামিলটনে বড় স্কোর গড়ার যে মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণ ফায়দা তোলেন ঈশান। এই বিধ্বংসী ইনিংস কেবল ভারতের বড় স্কোরের ভিতই গড়ে দেয়নি, আগামী দিনের মেগা টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলে ঈশানের অন্তর্ভুক্তি যে কতটা যুক্তিসঙ্গত, সে কথাটিই যেন বড় হরফে লিখে দিল হ্যামিলটনের সেডন পার্কে।
Leave a comment