কলকাতাঃ কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় ফুটপাথের ধারে নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন এক বৃদ্ধা। সেই দৃশ্য নজরে আসতেই তাঁকে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। আর তারপরই শুরু হয় বিতর্ক। কীভাবে একজন মন্ত্রী দুধের শিশুর মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে পারেন, সে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। এবার সেই বিতর্কের জবাব দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। ব্যস্ত রাস্তার ধারে ছোট শিশুকে বসিয়ে রাখার বিষয়টিই মূলত আপত্তির কারণ ছিল। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন থেকেই বৃদ্ধাকে ফুটপাথের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর থামেনি। ‘মানবিকতা’র প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। রবিবার ওই বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও। এবার সেই সমালোচনার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে শহরের ফুটপাথ ব্যবহারের নিয়মকেই সামনে আনলেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাথের অধিকার শুধু সেখানে বসবাস বা ব্যবসা করা মানুষের নয়, পথচারীদেরও। তাই ফুটপাথকে চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্ব সরকারের।
এছাড়াও অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “ফুটপাথ গরিব বা বড়লোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন, তাঁরা সবাই মানুষ। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় – ফুটপাথকে হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে হবে। ফুটপাথ মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়।” তাঁর যুক্তি, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ এবং শিল্প আনতে গেলে শহরের রাস্তা, যানজট, ড্রেনেজ-সহ সামগ্রিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। বাইরে থেকে আসা শিল্পপতিরা শহরের পরিকাঠামো দেখে যাতে পিছিয়ে না যান, সেদিকেও নজর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বহু বছরের সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে রাস্তা ও শহরের পরিকাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বিষয় : Bengal Politics Agnimitra Paul

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন