কলকাতা: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। বুধবার গভীর রাতে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে পাকড়াও করার পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের শেষে গ্রেফতার করা হয়েছে হোটেল ‘শিখা ইন’-এর লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে। জোড়াসাঁকোর এই বাসিন্দার নামেই হোটেলটি লিজ়ে চলছিল। এর পাশাপাশি আরও দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ, যাঁদের মধ্যে বীরেশ্বর মিত্রের মালিকানাধীন পাশের হোটেল ‘যাপন’-এর এক কর্মীও রয়েছেন। তবে এত বড় কাণ্ডের পরও মূল হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্র এখনও বেপাত্তা।
দমকলের সদর দফতরের ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত ওই পাঁচতলা ভবনের তিনতলায় মাত্র ১১০০ বর্গফুট জায়গার মধ্যে যেন আস্ত এক মরণফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল। ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা হয়েছিল পাঁচটি খুপরি ঘর। মঙ্গলবার গভীর রাতের বিধ্বংসী আগুনে ওই দমবন্ধ পরিবেশেই ঝলসে ও দম আটকে প্রাণ হারান অন্তত ৯ জন আবাসিক, যাঁদের মধ্যে পাঁচ জনই বাংলাদেশের নাগরিক।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গোটা ভবনটিতেই ন্যূনতম অগ্নি-সুরক্ষাবিধি না মেনে গজিয়ে উঠেছিল একাধিক হোটেল ও গেস্ট হাউস। এমনকি একটি খাঁটি আবাসিক ভবনকে সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। কীভাবে বছরের পর বছর প্রশাসনের চোখের সামনে এই বিপজ্জনক কারবার চলছিল, তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য পূর্বতন সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের গাফিলতি এবং নজর ঘুরিয়ে রাখার মনোভাবকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। লালবাজারের সিট এখন মূল চক্রী বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন