মহিষাদল: পূর্ণিমার ভরা কোটাল আর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের যৌথ প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে নদীপথ। তার মধ্যেই মহিষাদলের তেরপেখিয়া ঘাটে ঘটে গেল চরম বিপত্তি। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৫ জন যাত্রী এবং তিনটি মোটরবাইক নিয়ে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি নৌকা আচমকাই মাঝনদীতে উল্টে যায়। ঘাট থেকে মাত্র ২০০ মিটার এগোনোর পরেই জোয়ারের প্রকাণ্ড এবং শক্তিশালী তোড়ে সামলাতে না পেরে নৌকাটি ধপাস করে পাল্টি খায়। মুহূর্তের মধ্যে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি। তবে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে এবং সাঁতার জেনে থাকার কারণে নৌকায় থাকা ১৫ জন যাত্রীই অলৌকিক ও বরাতজোরে নদী পেরিয়ে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন, যার ফলে এড়ানো গিয়েছে এক বিশাল প্রাণহানি।
খবর পেয়েই অকুস্থলে পৌঁছায় মহিষাদল থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এবং স্বয়ং মহিষাদলের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা। নদী উত্তাল থাকায় কেউ কোনোভাবে ভেসে গিয়েছেন কি না, তা একশো শতাংশ নিশ্চিত করতে তৎক্ষণাৎ স্পিডবোট নামিয়ে জোরকদমে তল্লাশি চালায় উদ্ধারকারী দল। পরবর্তীতে ডুবুরি ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা উল্টে যাওয়া নৌকাটিকে টেনে পাড়ে নিয়ে আসেন। জলে তলিয়ে যাওয়া তিনটি মোটরবাইকের মধ্যে দু'টিকে নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাকি একটি বাইকের খোঁজে নদীতে তল্লাশি জারি রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌকায় কোনো শিশু বা মহিলা যাত্রী ছিলেন না। উদ্ধার পাওয়া যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিকল্প একটি সুরক্ষিত নৌকায় করে নন্দীগ্রাম পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী আতঙ্কের সুরে জানান, নৌকায় যাত্রীসংখ্যা ক্ষমতার চেয়ে বেশি ছিল না। তবে মাঝনদীতে হঠাৎ প্রকাণ্ড জোয়ারের বান চলে আসাতেই মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং নৌকাটি একপাশে উল্টে যায়। চোখের সামনে মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখে এখনও শিউরে উঠছেন ওই রুটের নিত্যযাত্রীরা। মহিষাদল খেয়াঘাটের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ফের নতুন করে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন