কলকাতাঃ নিউ মার্কেট লাগোয়া মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর এবার নড়েচড়ে বসল দমকল বিভাগ। আগুনের ঘটনায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠার পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের আরও ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তরাঁ কাম পানশালাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
দমকল আইনের ৩৭এ ধারায় পাঠানো ওই নোটিসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, উত্তর সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট হোটেল বা রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। বুধবারের অগ্নিকাণ্ডের পর ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, আগুন লাগার পর দ্রুত বেরিয়ে আসার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। অন্যদিকে, ‘শিখা ইন’ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে আরও দু’জনের পরিচয় বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান।
জানা গিয়েছে, আলিমুজ্জামান ব্যবসার কাজে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে নিউ মার্কেটের ওই গেস্ট হাউসে উঠেছিলেন তিনি। আগুনের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা। ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। ঘটনার পরই শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় থাকা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই মির্জা গালিব স্ট্রিটে একসঙ্গে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হল।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন