নয়াদিল্লি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নবগঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের পদ ঘিরে চরম রাজনৈতিক ও আইনি সংকট তৈরি হলো। শীর্ষ আদালতের নোটিসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ওই বিদ্রোহী ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ কেন খারিজ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব তলব করেছেন স্পিকার। ফলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের মতো হেভিওয়েট দলবদলকারী সাংসদদের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত চরম দোলাচলে।
তৃণমূল ছেড়ে এনডিএ সরকারকে সমর্থনের বার্তা দেওয়ার পর সংসদে তাঁদের বসার আসন বদল হলেও এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে এখনও স্বীকৃতি মেলেনি। এই আবহে বাদল অধিবেশন চলাকালীন কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের পদ খারিজের দাবি জানান। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলাকালীন অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, স্পিকার ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং ২০ জনকেই বক্তব্য জানাতে পৃথক নোটিস জারি করেছেন। শীর্ষ আদালত সব পক্ষকে নোটিস জারি করে দু’সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এদিকে স্পিকারের পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স হ্যান্ডলে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, গত ১৯ জুন সাংসদ পদ খারিজের আবেদন জানানো হলেও স্পিকার শুধু তাঁদের ভালো আসন ছাড়া কিছুই দেননি। অথচ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হতেই ২৫ আগস্টের ব্যাকডেটে তড়িঘড়ি নোটিস জারির কথা জানানো হচ্ছে। শীর্ষ আদালতের নজরদারি এবং স্পিকারের সাত দিনের কড়া ডেডলাইনের মুখে পড়ে এখন চরম অস্বস্তিতে সুদীপ-কাকলিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন