ধূপগুড়িঃ ‘১৫ আগস্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙালিদের’, তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্য ঘিরে ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধু হুঁশিয়ারি নয়, ২০০২ সালে ধূপগুড়ির সিপিআইএম পার্টি অফিসে কেএলও হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করতে শোনা গিয়েছে সুকদেব রায়কে। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিয়োটি সামনে আসার পরেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একদল যুবক। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রুজু করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত সুকদেব। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে সিপিআইএম। দলের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উস্কানির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা। বাংলাকে ভাগ করার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সিপিআইএম। বিজেপিও তৃণমূল নেতার মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে। দলের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মাধবচন্দ্র রায়ের দাবি, এর আগেও সুকদেব সমাজমাধ্যমে একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যের পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, প্রশাসনের তা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও দাবি করেছে বিজেপি।
সুকদেবের মন্তব্যে ২০০২ সালের ধূপগুড়ির সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিও নতুন করে সামনে এসেছে। ১৭ আগস্ট সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে কেএলও জঙ্গিদের হামলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখনও সেই কার্যালয়ের স্টিলের আলমারিতে গুলির চিহ্ন রয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ফের আগস্ট মাসেই সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বিষয় : North Bengal Dhupguri

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন