কলকাতা: তোলাবাজি, খুন এবং হিসাব বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে দিন কাটছে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের আধিকারিকেরা তাঁকে দফায় দফায় জেরা করছেন। আর সেই টানা জেরার মুখেই এবার মেজাজ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। সিট সূত্রে খবর, জেরার সময় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে দেবরাজ বারবার বলছেন যে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চরম মানসিক অবসাদে পুলিশ হেফাজতে খাওয়াদাওয়াও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। মুখে এখন আর সেই চেনা দাপট নেই, বরং তদন্তকারীদের কাছে একটাই প্রশ্ন ধেয়ে আসছে তাঁর তরফ থেকে— “আর কতদিন এভাবে বন্দি হয়ে থাকতে হবে?”
তৃণমূল জমানায় উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছিল দেবরাজ চক্রবর্তীর। গায়িকা অদিতি মুন্সিকে বিয়ের পর তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন এবং একুশের বিধানসভা নির্বাচনে স্ত্রী বিধায়ক হতেই এলাকায় কার্যত ‘শেষ কথা’ হয়ে ওঠেন দেবরাজ। ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে হু হু করে। তবে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির খতিয়ান দেখে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের।
'তৃণমূল ডুবন্ত নৌকা, যে উঠবে সেই ডুববে'— সুকান্ত মজুমদার
অভিযোগ উঠেছে, বাগুইআটি এলাকার এক জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতার ওপর দিনের পর দিন তোলাবাজির জুলুম চালিয়েছেন দেবরাজ। একপর্যায়ে মন্দিরের দানপাত্র পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেই অত্যাচারে বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত মন্দিরটি বিক্রি করে দেন এক বৃদ্ধ। এছাড়া বিধাননগর পুরসভার ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রোমোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টির এক অভিনব কায়দাও রপ্ত করেছিলেন তিনি। কোনো নির্মাণকে বেআইনি দেগে পুরসভার তরফে নোটিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হতো, এবং পরবর্তীতে মোটা টাকার রফাদফা হলেই ‘ম্যাজিকের মতো’ ফের মিলত কাজ শুরুর অনুমতি।
রবিবার মাঝরাতেও লকআপে বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয় দেবরাজকে। বিশেষ করে পুরসভার নোটিশ পাঠিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা এবং পরে কোন জাদুবলে তা আবার চালু হতো— এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখেই প্রশ্নবাণ ছোঁড়েন সিটের আধিকারিকেরা। কিন্তু সূত্রের খবর, এই সমস্ত প্রভাবশালী দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে দেবরাজ দাবি করেছেন, তিনি এসবের কিছুই জানতেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা এই কান্না বা খাওয়া বন্ধের তত্ত্বে নরম হতে নারাজ; দেবরাজের রাজকীয় উত্থানের নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির অঙ্ক কোথায় কোথায় গিয়েছে, তার শেষ দেখতে মরিয়া সিটের গোয়েন্দারা।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন