বারুইপুর: নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে বারবার শোনা গিয়েছিল লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি। নিজেকে ‘ঘরের ছেলে’ দাবি করে সাধারণ মানুষের পাশে সারাবছর থাকার বার্তা দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারার পর, তাঁর কথা ও কাজের বিস্তর ফারাক এখন চরম চর্চার বিষয় রাজনৈতিক মহলে।
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনার পর সুবিচারের দাবিতে যেখানে সর্বস্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পথে নেমেছেন, এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মোমবাতি মিছিলে শামিল হয়েছেন, সেখানে তৃণমূলের ‘যুবরাজ’কে কেবল অন্দরমহলে বসে ভিডিও কলেই দায় সারতে দেখা গেল। লড়াইয়ের ময়দানে না থেকে কেন তিনি ঘরে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জনসংযোগের অভাব এবং সংকটকালে পিছু হটার এই অভিযোগ অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন নয়। ২০২৪ সালে আর জি কর কাণ্ডে যখন গোটা রাজ্য আন্দোলনে উত্তাল, তখনও শাসকদলের এই শীর্ষ নেতাকে সেভাবে ময়দানে দেখা যায়নি। উলটে দীর্ঘ আন্দোলন ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাঝেই চিকিৎসার অজুহাতে তাঁর বিদেশ যাত্রা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গড় ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলকে জেতাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই দূরত্ব যেন আরও প্রকট হয়েছে। যে দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে একদা তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ বলা হতো, সেখানে এবার বেশিরভাগ আসনেই ফুটেছে পদ্ম। এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেও যেমন তাঁর দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে, তেমনই যখনই তিনি জনসংযোগ করতে গিয়েছেন, তখনই তাঁকে তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে গায়ে ডিম, পোড়া বেগুন ও ইট-পাটকেলের আঘাত সওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাই সম্ভবত অভিষেককে আরও ভীত ও ‘গৃহবন্দি’ করে তুলেছে। সোনারপুরের সেই ঘটনার পর থেকে তাঁকে আর সেভাবে প্রকাশ্য রাজপথে নামতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার পরও তাঁর ভূমিকা সীমাবদ্ধ রইল কেবল রবিবারের একটি ভিডিও কলেই।
'সেবাশ্রয়' কি দুর্নীতির আঁতুড়ঘর? কোটি টাকার ওষুধ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ফের চাপে অভিষেক
নির্যাতিতার পরিবারকে ভিডিও কল করে পাশে থাকার আশ্বাস এবং পরবর্তীতে একদিন দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত থেকেছেন তিনি। অথচ সোমবারই কালীঘাট থেকে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন কিংবা প্রতিমা মণ্ডলরা সশরীরে এলাকায় গিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ডিম ও ইটের ভয়েই বারুইপুর কাণ্ডে পুরোপুরি মাঠছাড়া হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ?

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন