Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

শিশুর মুখে নির্যাতনের কথা শুনেও নীরব? তাতেও হতে পারে জেল, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬
শিশুর মুখে নির্যাতনের কথা শুনেও নীরব? তাতেও হতে পারে জেল, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
ছবি সংগৃহীত

নাবালক বা নাবালিকার যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হবে। কোনও শিশু যদি দাবি করে যে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তবে সেই অভিযোগকে ‘সত্য’ ধরে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু তাই নয়, কোনও ব্যক্তি যদি এই ধরনের অভিযোগের কথা জানতে পারেন, তবে তাঁর দায়িত্ব তা অবিলম্বে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। অভিযোগ জেনেও চুপ থাকলে তা ‘অপরাধ’ হিসেবেই গণ্য হবে। পকসো আইন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।


বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও শিশু যদি কাউকে সরাসরি জানায় যে সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে ওই ব্যক্তি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। শুধু অপরাধ প্রত্যক্ষ করা নয়, নির্যাতিতার কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়াও আইনি দায়িত্বের আওতায় পড়ে। অরুণাচলের একটি স্কুলে আট বছরের এক বালিকার যৌন নির্যাতনের মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে স্কুলেরই এক উচ্চ শ্রেণির ছাত্র যৌন নির্যাতন করে। ঘটনার কথা সে তার শিক্ষক, বড় বোন এবং কয়েকজন সহপাঠীকে জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর আগে গুয়াহাটি হাই কোর্ট অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকাকে স্বস্তি দিয়ে জানিয়েছিল, নাবালিকার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন না থাকায় অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সব সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তাই কোনও নাবালক বা নাবালিকার অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। অভিযোগ শোনার পরও পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি না জানানোয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ২১ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৬ ধারায় মামলা চালানোর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলেও জানিয়েছে আদালত।


আদালত আরও বলেছে, শিশুরা বয়সের কারণে অনেক সময় ঘটনার গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। তাই ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার জন্য তাদের সংক্ষিপ্তভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কখনওই অভিযোগকে চাপা দেওয়া বা খারিজ করা হতে পারে না। তবে নির্যাতিতার বড় বোন এবং সহপাঠীরা নাবালক হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, যারা সরাসরি ঘটনায় জড়িত নন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু অভিযোগ জেনেও দায়িত্ব পালন করেননি, এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বিষয় : Supreme Court of India pocso

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


শিশুর মুখে নির্যাতনের কথা শুনেও নীরব? তাতেও হতে পারে জেল, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image
নাবালক বা নাবালিকার যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই দেখতে হবে। কোনও শিশু যদি দাবি করে যে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তবে সেই অভিযোগকে ‘সত্য’ ধরে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। শুধু তাই নয়, কোনও ব্যক্তি যদি এই ধরনের অভিযোগের কথা জানতে পারেন, তবে তাঁর দায়িত্ব তা অবিলম্বে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো। অভিযোগ জেনেও চুপ থাকলে তা ‘অপরাধ’ হিসেবেই গণ্য হবে। পকসো আইন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনও শিশু যদি কাউকে সরাসরি জানায় যে সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে ওই ব্যক্তি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। শুধু অপরাধ প্রত্যক্ষ করা নয়, নির্যাতিতার কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়াও আইনি দায়িত্বের আওতায় পড়ে। অরুণাচলের একটি স্কুলে আট বছরের এক বালিকার যৌন নির্যাতনের মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে স্কুলেরই এক উচ্চ শ্রেণির ছাত্র যৌন নির্যাতন করে। ঘটনার কথা সে তার শিক্ষক, বড় বোন এবং কয়েকজন সহপাঠীকে জানিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর আগে গুয়াহাটি হাই কোর্ট অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকাকে স্বস্তি দিয়ে জানিয়েছিল, নাবালিকার শরীরে আঘাতের কোনও চিহ্ন না থাকায় অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সব সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তাই কোনও নাবালক বা নাবালিকার অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। অভিযোগ শোনার পরও পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি না জানানোয় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ২১ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৭৬ ধারায় মামলা চালানোর যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলেও জানিয়েছে আদালত।আদালত আরও বলেছে, শিশুরা বয়সের কারণে অনেক সময় ঘটনার গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। তাই ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার জন্য তাদের সংক্ষিপ্তভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য কখনওই অভিযোগকে চাপা দেওয়া বা খারিজ করা হতে পারে না। তবে নির্যাতিতার বড় বোন এবং সহপাঠীরা নাবালক হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, যারা সরাসরি ঘটনায় জড়িত নন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু অভিযোগ জেনেও দায়িত্ব পালন করেননি, এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার