কলকাতা: কসবার কুখ্যাত ডন তথা ত্রাস বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ ইডি আদালতে জমা পড়েছে তার কীর্তিকলাপের খতিয়ান ভরা প্রায় ১০০ পাতার এক বিস্ফোরক চার্জশিট। প্রবীণদের জমি জোর করে দখল করা থেকে শুরু করে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে, যা নিয়ে এখন জোর শোরগোল রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে।
ইডির জমা দেওয়া চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিজের বাহুবল ও পেশিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কলকাতার বুকে মূলত বয়স্ক ও প্রবীণ মানুষদের টার্গেট করত সোনা পাপ্পু। ভয় দেখিয়ে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের বহুমূল্য জমি জলের দরে লিখিয়ে নিয়ে চলত বেআইনি বহুতল নির্মাণের রমরমা কারবার। আর এই পুরো অপরাধমূলক সাম্রাজ্য পরিচালনায় তাকে প্রত্যক্ষভাবে মদত জোগাতেন প্রাক্তন এক পুলিশ অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। প্রভাব খাটিয়ে এবং খোদ প্রশাসনের একাংশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রবীণদের ওপর দিনের পর দিন অকথ্য অত্যাচার চালানো হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই মামলায় সোনা পাপ্পুর পাশাপাশি জয় কামদার নামে আরও এক অভিযুক্তের নাম জড়িয়েছে, যে কিনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে আগ্নেয়াস্ত্রের বেআইনি লাইসেন্স পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিল।
তদন্তে জানা গেছে, পাপ্পুর স্ত্রীর নামে পিস্তল কেনার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোডে একটি মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফেরার হয়ে যায় সোনা পাপ্পু। পরবর্তীকালে ইডি তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে এবং তাকে বারবার তলব করা সত্ত্বেও সে হাজিরা এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ায়। অবশেষে, গত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইডির আধিকারিকেরা তাকে বাগে আনেন। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরায় বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় এবং তথ্য গোপনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। প্রায় ২০০ জন সাক্ষীর বয়ান সম্বলিত এই ১০০ পাতার চার্জশিট আগামী দিনে কসবার এই ডনের জেলযাত্রার মেয়াদ আরও বাড়াতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন