গয়না মানেই আমরা জানি সাজসজ্জার অনুষঙ্গ। কিন্তু Gen Z সেই ধারণাতেই আনছে বদল। এখন শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নয়, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ সামলাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের গয়না। নাম ‘অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি’। স্পিনার রিং, ব্রিদিং পেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফিজেট জুয়েলারি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আধুনিক জীবনে স্ট্রেস এখন প্রায় সকলেরই নিত্যসঙ্গী। সেই চাপ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফ্যাশন ও মেন্টাল ওয়েলনেসকে একসঙ্গে মেলাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। ফলে বাজারে বাড়ছে এমন গয়নার চাহিদা, যেগুলি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই ব্যবহারেও রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য। নড়াচড়া করা বা কাইনেটিক জুয়েলারির ধারণা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জার্মান শিল্পী ফ্রিডরিখ বেকার এই ধরনের নড়াচড়া করা গয়নার নকশা তৈরি করেছিলেন। সেই ধারণাই এখন নতুনভাবে ফিরে এসেছে মানসিক চাপ কমানোর হাতিয়ার হিসেবে। এই ধরনের গয়নার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল স্পিনার রিং। আঙুলে থাকা এই রিং ঘোরানোর মাধ্যমে হাতের ব্যস্ততা বাড়ে, যা অস্থির মনকে কিছুক্ষণের জন্য অন্যদিকে সরিয়ে আনতে সাহায্য করে। অনেকের ক্ষেত্রে এই পুনরাবৃত্তিমূলক নড়াচড়া মনকে শান্ত করতে সহায়ক হয়।
২১ জুলাই ইস্যুতে কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?
আরেকটি জনপ্রিয় জিনিস হল ব্রিদিং পেন্ডেন্ট। দেখতে অনেকটা ছোট পাইপের মতো এই গয়নার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হয়। নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এছাড়াও অ্যারোমাথেরাপি ব্রেসলেটের মতো গয়নাও ব্যবহার করছেন অনেকে, যেখানে প্রাকৃতিক সুগন্ধ বা তেলের মাধ্যমে মন ভালো রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে মনোবিদদের মতে, এই ধরনের গয়না উদ্বেগের কোনও স্থায়ী চিকিৎসা নয়। এগুলি মূলত সাময়িকভাবে চাপ সামলানোর একটি উপায়। বিশেষজ্ঞরা একে এক ধরনের গ্রাউন্ডিং টেকনিক হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, যখন মন অতিরিক্ত চিন্তায় ডুবে যায়, তখন হাতের স্পর্শ বা কোনও নির্দিষ্ট শারীরিক অনুভূতির মাধ্যমে মনোযোগকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনা।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন