কলকাতা: একসময়ের দাপুটে নেতা, যাঁর অঙ্গুলিহেলনে কাঁপত বিধাননগর-রাজারহাট এলাকা, সেই সব্যসাচী দত্তের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে এবার চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। রবিবার বিকেলে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ যখন রাজারহাটের ১৩ তলার ফ্ল্যাটে ম্যারাথন তল্লাশি চালায়, তখন সেখান থেকে উদ্ধার হয় রাশি রাশি সোনা কেনার রসিদ। আলমারি থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সোনার রসিদ বেরোতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, এক সময়ের বিধায়ক তথা বর্তমান কাউন্সিলরের এই বিপুল সম্পত্তির উৎস ঠিক কী? সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ জুন রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার সেই মামলার তদন্তে নেমেই সব্যসাচীর সম্পত্তির খতিয়ান দেখে কার্যত হতবাক পুলিশ প্রশাসন।
রবিবার বিকেলেই সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বিধাননগর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অফিস ও সংলগ্ন একটি ক্লাবে হানা দেয় পুলিশ। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাটের সেই বিলাসবহুল আবাসনে, যেখানে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া রসিদগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনাবেচার ইঙ্গিত মিলছে, যার বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তৃণমূলের বিধায়ক থাকাকালীন এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র দাপট ছিল। এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে সুজিত বসুর কাছে পরাজয় এবং ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন— তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল যথেষ্ট ঘটনাবহুল। তবে এবারের লোকসভা ভোটে বারাসত কেন্দ্রে হারের পর যেন আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। রবিবাসরীয় বিকেলে ডিম হামলার শিকার হওয়ার পর এবার সোনার রসিদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় সব্যসাচী দত্তের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আইনি জটিলতা যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন