তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ শতাব্দী রায় নতুন রাজনৈতিক দল NCPI বা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে যোগ দেওয়ার পর দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আনলেন। তাঁর দাবি, দলের ভেতরে বহুদিন ধরেই নানা বিষয় নিয়ে মতামত জানানো হলেও তা গুরুত্ব পায়নি। বরং যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন বা পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
শতাব্দী রায় বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দল আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারত। পাশাপাশি সাধারণ কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতেরও যথাযথ মূল্য দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে, যার ফলে অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
দলবদলের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হলেন শতাব্দী রায়। তাঁর দাবি, ২০০৯ সাল থেকে দলের কঠিন সময়েও তিনি তৃণমূলের পাশে ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ ও অভিযোগের কোনও সমাধান হয়নি। তাঁর কথায়, এত সংখ্যক নেতা-সাংসদ একসঙ্গে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মানেই দলের ভিতরে গভীর সমস্যা ছিল, যা নেতৃত্ব গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।
শুধু তাই নয়, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনযাত্রা ও দলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শতাব্দী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন অনিয়মের কথা নেতৃত্বকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলের জন্য লড়াই করা বহু নেতা-কর্মীর পাশে নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতে পারেনি।
দলবদলের পর শতাব্দী রায় স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নতুন রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করা। তৃণমূলের প্রতীক বা সংগঠনের উপর কোনও দাবি তাঁরা করছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য সেই সংকটকেই আরও স্পষ্ট করে তুলল।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন