Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এবার তলোয়ার ঐচ্ছিক, মেস ড্রেসে নিষিদ্ধ পাউচ বেল্ট! ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ ম্যানুয়ালে সাজগোজ নিয়ে সেনার চরম নির্দেশিকা!

এবার তলোয়ার ঐচ্ছিক, মেস ড্রেসে নিষিদ্ধ পাউচ বেল্ট! ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ ম্যানুয়ালে সাজগোজ নিয়ে সেনার চরম নির্দেশিকা!
FILE IMAGE

নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হলো ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের শেষ চিহ্নটুকুও। দেশের সার্বভৌম পরিচয় এবং জাতীয় ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে সেনার পোশাকে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হলো। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে সম্প্রতি ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ নামের ১৭৪ পাতার একটি সম্পূর্ণ নতুন ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে পোশাকের পাশাপাশি জওয়ান ও অফিসারদের সাজগোজ নিয়ে একগুচ্ছ কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে আনুষ্ঠানিক বা ফর্মাল কোনও অনুষ্ঠানে অফিসাররা ফুল হাতা শার্টের উপর মার্জিত রঙের গলা বন্ধ কোট বা জ্যাকেট পরার ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্যারেডের সময়ে সেনা অফিসারদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার রাখার নিয়মটিকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করা হয়েছে এবং তুলে দেওয়া হয়েছে বহু প্রাচীন আনুষ্ঠানিক পাউচ বেল্ট বা চামড়ার কোমর বন্ধনীর ব্যবহার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সশস্ত্র বাহিনীকে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত করতেই এই মেকওভার।


নতুন এই নির্দেশিকায় সমস্ত পদমর্যাদার কর্মীদের জন্য নতুন শীতকালীন পোশাকের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে অ্যাঙ্গোলা শার্টের সঙ্গে একটি ব্যাটল জ্যাকেট এবং বেরেট টুপি থাকবে। মহিলা অফিসারদের ক্ষেত্রে ফর্মাল ড্রেস হিসেবে মার্জিত রঙের শাড়ি অথবা কুর্তা-সালোয়ার এবং গোড়ালি ঝুলের প্যান্টের সঙ্গে দোপাট্টা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্লিভলেস কুর্তা, পালাজ়ো বা সিগারেট প্যান্টের মতো ক্যাজ়ুয়াল পোশাক সেনায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধু পোশাকই নয়, সেনার অভিধান থেকে ‘রয়্যাল’-এর মতো একাধিক প্রাচীন ব্রিটিশ শব্দও চিরতরে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেস ড্রেস নম্বর ৫ এবং ৬ থেকে ঐতিহ্যবাহী পাউচ বেল্ট বাদ দেওয়া হলেও আর্মার্ড কোর, মেকানাইজ়ড ইনফ্যান্ট্রি বা আর্টিলারি রেজ়িমেন্টের মতো কিছু বিশেষ বিভাগের কর্নেল পদমর্যাদার অফিসাররা অবশ্য এটি ব্যবহার করতে পারবেন।


পোশাকের পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনা কর্মীদের ব্যক্তিগত সাজগোজ এবং চেহারার উপর কার্যত নজিরবিহীন ও কঠোর নিয়ম জারি করেছে সেনা কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শরীরে কোনও ট্যাটু বা গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন হাতের কব্জিতে কেবল একটিমাত্র সুতো বা ধাগা পরা গেলেও, কোনও ধরণের ব্রেসলেট পরা যাবে না। ভারতীয় সেনার মধ্যে শিখ ধর্মাবলম্বীদের বাদ দিয়ে বাকিদের ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুরুষ কর্মীদের গোঁফের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। 


Half the budget, double the feast!


 একই সঙ্গে ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও আফটার-শেভ লোশন ব্যবহারের ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে, মহিলা সেনা কর্মীদের ক্ষেত্রে লিপস্টিক, নেলপলিশ, কপালে টিপ বা নাকছাবি পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সিঁদুর পরায় ছাড় থাকলেও তা এমন ভাবে পরতে হবে যাতে বেরেট বা পিক ক্যাপ পরলে বাইরে থেকে সেটি কোনওভাবেই দেখা না যায়। সেনাবাহিনীর এই নতুন রূপ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মহলে।

বিষয় : indianarmy armyuniform2026 decolonization newdresscode nationalpride

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


এবার তলোয়ার ঐচ্ছিক, মেস ড্রেসে নিষিদ্ধ পাউচ বেল্ট! ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ ম্যানুয়ালে সাজগোজ নিয়ে সেনার চরম নির্দেশিকা!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হলো ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের শেষ চিহ্নটুকুও। দেশের সার্বভৌম পরিচয় এবং জাতীয় ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে সেনার পোশাকে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হলো। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে সম্প্রতি ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ নামের ১৭৪ পাতার একটি সম্পূর্ণ নতুন ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে পোশাকের পাশাপাশি জওয়ান ও অফিসারদের সাজগোজ নিয়ে একগুচ্ছ কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে আনুষ্ঠানিক বা ফর্মাল কোনও অনুষ্ঠানে অফিসাররা ফুল হাতা শার্টের উপর মার্জিত রঙের গলা বন্ধ কোট বা জ্যাকেট পরার ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সঙ্গে প্যারেডের সময়ে সেনা অফিসারদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার রাখার নিয়মটিকে সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করা হয়েছে এবং তুলে দেওয়া হয়েছে বহু প্রাচীন আনুষ্ঠানিক পাউচ বেল্ট বা চামড়ার কোমর বন্ধনীর ব্যবহার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সশস্ত্র বাহিনীকে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্ত করতেই এই মেকওভার।নতুন এই নির্দেশিকায় সমস্ত পদমর্যাদার কর্মীদের জন্য নতুন শীতকালীন পোশাকের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে অ্যাঙ্গোলা শার্টের সঙ্গে একটি ব্যাটল জ্যাকেট এবং বেরেট টুপি থাকবে। মহিলা অফিসারদের ক্ষেত্রে ফর্মাল ড্রেস হিসেবে মার্জিত রঙের শাড়ি অথবা কুর্তা-সালোয়ার এবং গোড়ালি ঝুলের প্যান্টের সঙ্গে দোপাট্টা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্লিভলেস কুর্তা, পালাজ়ো বা সিগারেট প্যান্টের মতো ক্যাজ়ুয়াল পোশাক সেনায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধু পোশাকই নয়, সেনার অভিধান থেকে ‘রয়্যাল’-এর মতো একাধিক প্রাচীন ব্রিটিশ শব্দও চিরতরে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেস ড্রেস নম্বর ৫ এবং ৬ থেকে ঐতিহ্যবাহী পাউচ বেল্ট বাদ দেওয়া হলেও আর্মার্ড কোর, মেকানাইজ়ড ইনফ্যান্ট্রি বা আর্টিলারি রেজ়িমেন্টের মতো কিছু বিশেষ বিভাগের কর্নেল পদমর্যাদার অফিসাররা অবশ্য এটি ব্যবহার করতে পারবেন।পোশাকের পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনা কর্মীদের ব্যক্তিগত সাজগোজ এবং চেহারার উপর কার্যত নজিরবিহীন ও কঠোর নিয়ম জারি করেছে সেনা কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শরীরে কোনও ট্যাটু বা গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন হাতের কব্জিতে কেবল একটিমাত্র সুতো বা ধাগা পরা গেলেও, কোনও ধরণের ব্রেসলেট পরা যাবে না। ভারতীয় সেনার মধ্যে শিখ ধর্মাবলম্বীদের বাদ দিয়ে বাকিদের ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুরুষ কর্মীদের গোঁফের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১২ সেন্টিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। Half the budget, double the feast! একই সঙ্গে ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও আফটার-শেভ লোশন ব্যবহারের ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে, মহিলা সেনা কর্মীদের ক্ষেত্রে লিপস্টিক, নেলপলিশ, কপালে টিপ বা নাকছাবি পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সিঁদুর পরায় ছাড় থাকলেও তা এমন ভাবে পরতে হবে যাতে বেরেট বা পিক ক্যাপ পরলে বাইরে থেকে সেটি কোনওভাবেই দেখা না যায়। সেনাবাহিনীর এই নতুন রূপ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মহলে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার