Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দলেরই ‘চোর-ডাকাত’ ধরা পড়ায় আনন্দ! সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদ্গার করতেই ছাঁটাই দেবাংশু, দায়িত্বে নতুন মুখ!

দলেরই ‘চোর-ডাকাত’ ধরা পড়ায় আনন্দ! সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদ্গার করতেই ছাঁটাই দেবাংশু, দায়িত্বে নতুন মুখ!
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি করে এবং দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের কড়া সাজা হিসেবে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে বড়সড় দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁকে দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের চেয়ারপারসন পদ থেকে ছেঁটে ফেলে সেই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে। মূলত পরাজয়ের পর থেকে দেবাংশুর ‘রহস্যজনক অন্তর্ধান’ এবং গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তাঁর ধারালো আক্রমণই এই বহিষ্কারের নেপথ্যে মূল কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া আসনে পোড়খাওয়া বিধায়ক অসিত মজুমদারকে টিকিট না দিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু বিপুল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। একদিকে যখন রাজ্যে পালাবদলের পর দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় চলছে, তখন দলের কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দেবাংশু ব্যস্ত ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রোহ ঘোষণা করতে। সম্প্রতি দলের বেশ কিছু নেতার গ্রেফতারি নিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘কিছু চোর ডাকাত তোলাবাজদের গ্রেপ্তার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়।’ দলের অন্দরে যখন ভাঙন চলছে, তখন নিজের দলের নেতাদের নিয়েই এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ঘাসফুল শিবিরের অবশিষ্ট নেতৃত্ব।

ট্রাম্পের অভিযোগের মুখে জয়শঙ্করের সপাট জবাব!


শুধু গ্রেফতারি নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতার বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়া নিয়েও মুখ খুলেছিলেন দেবাংশু। তিনি সরাসরি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির জন্য দলই দায়ী এবং সঠিক সময়ে দল শক্ত হাতে হাল ধরতে পারেনি। পাশাপাশি বিজেপি নেতা তথা বর্তমান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের প্রশংসাও শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। এই সমস্ত বিতর্কিত অবস্থান দলের অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরই ফলস্বরূপ, দলের নতুন সাংগঠনিক রদবদলে কোপ পড়ল তাঁর ঘাড়ে।


উল্লেখ্য, তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙনের পর সব কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইভাবে মহিলা তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়েছেন আলিফা আহমেদ এবং উত্তর কলকাতার রাশ দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষের হাতে। এরই সমান্তরালে দেবাংশুকে সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উপাসনা চৌধুরীকে আনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিল যে, বেসুরো গাইলে দলে আর কোনও জায়গা নেই। দেবাংশুর এই পদচ্যুতি কি তবে তাঁর দলত্যাগের আগাম সংকেত? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে।

বিষয় : WestBengalPolitics debangshubhattacharya TMCREBLLION socialmediacell debangshuscaked

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


দলেরই ‘চোর-ডাকাত’ ধরা পড়ায় আনন্দ! সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদ্গার করতেই ছাঁটাই দেবাংশু, দায়িত্বে নতুন মুখ!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। অবশেষে সেই জল্পনা সত্যি করে এবং দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যের কড়া সাজা হিসেবে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে বড়সড় দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁকে দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের চেয়ারপারসন পদ থেকে ছেঁটে ফেলে সেই জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে। মূলত পরাজয়ের পর থেকে দেবাংশুর ‘রহস্যজনক অন্তর্ধান’ এবং গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তাঁর ধারালো আক্রমণই এই বহিষ্কারের নেপথ্যে মূল কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া আসনে পোড়খাওয়া বিধায়ক অসিত মজুমদারকে টিকিট না দিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু বিপুল ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। একদিকে যখন রাজ্যে পালাবদলের পর দিকে দিকে তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় চলছে, তখন দলের কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দেবাংশু ব্যস্ত ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রোহ ঘোষণা করতে। সম্প্রতি দলের বেশ কিছু নেতার গ্রেফতারি নিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘কিছু চোর ডাকাত তোলাবাজদের গ্রেপ্তার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়।’ দলের অন্দরে যখন ভাঙন চলছে, তখন নিজের দলের নেতাদের নিয়েই এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ঘাসফুল শিবিরের অবশিষ্ট নেতৃত্ব।ট্রাম্পের অভিযোগের মুখে জয়শঙ্করের সপাট জবাব! শুধু গ্রেফতারি নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতার বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়া নিয়েও মুখ খুলেছিলেন দেবাংশু। তিনি সরাসরি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির জন্য দলই দায়ী এবং সঠিক সময়ে দল শক্ত হাতে হাল ধরতে পারেনি। পাশাপাশি বিজেপি নেতা তথা বর্তমান শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের প্রশংসাও শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। এই সমস্ত বিতর্কিত অবস্থান দলের অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরই ফলস্বরূপ, দলের নতুন সাংগঠনিক রদবদলে কোপ পড়ল তাঁর ঘাড়ে।উল্লেখ্য, তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙনের পর সব কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একইভাবে মহিলা তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়েছেন আলিফা আহমেদ এবং উত্তর কলকাতার রাশ দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষের হাতে। এরই সমান্তরালে দেবাংশুকে সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উপাসনা চৌধুরীকে আনার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিল যে, বেসুরো গাইলে দলে আর কোনও জায়গা নেই। দেবাংশুর এই পদচ্যুতি কি তবে তাঁর দলত্যাগের আগাম সংকেত? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার