কলকাতা: শারদোৎসবের ঠিক মুখে রাজ্য রাজনীতিতে মহাপ্রলয়!
উপনির্বাচনের গণনার শেষ লগ্নে এসে বিরোধীদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে রেকর্ড ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পুরোনো সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের অভাবনীয় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণ উল্টে দিয়ে প্রায় ৭৫,৭১০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে খাতা খুলল গেরুয়া শিবির। দেবীপক্ষের আগেই দুই কেন্দ্রে উড়ল আবির, গর্জে উঠল বিজেপির জয়ধ্বনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম আসন থেকেই ৮১ হাজারেরও বেশি ভোটের মার্জিনে জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে উপনির্বাচনের ফলে নিজের গড়ে সেই রেকর্ডকেও অনেক পেছনে ফেলে দিলেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ প্রার্থী হাসিরানি রথ। গণনা কেন্দ্রে প্রথম রাউন্ড থেকেই প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান আকাশ ছুঁতে শুরু করে।
১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে দেখা যায়, ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলেছে বিজেপি। নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের জমি ধরে রাখতে পারলেও বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে কংগ্রেস। তৃতীয় স্থানে সিপিএম এবং চতুর্থ স্থানটি দখল করেছে আইএসএফ। তবে সব রাজনৈতিক শিবিরকে তাজ্জব বানিয়ে গণনার তালিকায় একেবারে তলানিতে ঠেকেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’।
অন্য দিকে, এই উপনির্বাচনের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস সৃষ্টি করে এই প্রথম রেজিনগরের মতো ঐতিহ্যবাহী মুসলিম প্রধান এলাকায় ফুটল পদ্ম। প্রবীণ নেতা হুমায়ুন কবীরের দল এবং মমতার তৃণমূলকে পেছনে ফেলে ১৫ রাউন্ডের শেষে বিজেপির শাখারভ সরকার ৭৫,৭১০ ভোটে জয়লাভ করেন। প্রাক-ভোট জল্পনায় যে কেন্দ্রকে বিজেপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ধরা হচ্ছিল, সেখানে এই বিপুল জয় বঙ্গ বিজেপির জন্য এক অভূতপূর্ব মাইলফলক।
জোড়া কেন্দ্রের এই অভাবনীয় জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “দুই কেন্দ্রেই জয় নিশ্চিত ছিল। আসলে বাংলায় উগ্র তোষণ রাজনীতির বদলে রাষ্ট্রে বিশ্বাসী রাষ্ট্রবাদী শক্তিই শেষ পর্যন্ত জিতছে। জনগণের এই রায় স্পষ্ট করে দিল বিরোধীদের দিন এবার সত্যি শেষ।”
সব মিলিয়ে, পুজোর মুখে উপনির্বাচনের ফল বঙ্গ রাজনীতির পুরো আবহাওয়াই বদলে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে আধিপত্য ধরে রাখার পাশাপাশি রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু ঘাঁটিতে বিজেপির পদ্ম ফোটানো আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি নতুন এক মোড়ে পৌঁছে দিল।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন