কলকাতা: বাইপাস সংলগ্ন বাসভবনে হামলার ঘটনার পর ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের’ দায়ী করতেই প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে মারাত্মক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকাতার পূর্বালোক এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশবাবুর বাড়ি লক্ষ্য করে মদের বোতল ছুড়ে কাচ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই বাপ্পা গুছাইত নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের মাঝেই রাজনীতির পারদ চরমে উঠল। প্রবীণ আইনজীবীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ‘সনাতনী হিন্দু সমাজকে অপমান’ করার অভিযোগে উল্টে খোদ তাঁর বিরুদ্ধেই সমান্তরাল তদন্ত ও কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যপ্রশাসক।
শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালে এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বিকাশবাবুর অভিযোগকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “উনি বলেছেন হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে। এই মন্তব্যের ওপর এবার সমান্তরাল তদন্ত হবে। আমি ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই।” মুখ্যমন্ত্রী যুক্তি দেন, কে বা কারা কোন উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছিল পুলিশ যেমন তা খতিয়ে দেখবে, তেমনই কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া গোটা সনাতন সমাজকে কাদা ছেটানোর অপরাধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক আইনজীবী সংগঠন যখন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর এই হুমকিতে কার্যত আইনি জাঁতাকলে আক্রান্ত আইনজীবীই।
সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কেবল বিকাশ ভট্টাচার্যই নন, একযোগে বামপন্থীদের নিশানা করে ‘দিমাগি নকশাল’ আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তি ও আজাদি মিছিলের স্মৃতি উসকে দিয়ে শুভেন্দু হুঙ্কার ছাড়েন, “কমিউনিস্ট লোক, দিমাগি নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তিদের চিনে চিনে শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, রাস্তায় নামতে হবে।” তিনি স্পষ্ট জানান, যে কাশ্মীরের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছিল, সেই কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। তাই যাদবপুরের মতো নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘আজাদি আজাদি’ স্লোগান বা মিছিল আর বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজে কেবল ‘বন্দে মাতরম’-এর আওয়াজ উঠবে।
এদিন রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সেটাই আজ গোটা দেশের আসল কণ্ঠস্বর। এবিভিপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি ‘অভয়া’র পরিবারকে বিচার দিতে রাজ্য সরকার পাশে রয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে বাইপাস সংলগ্ন হামলায় প্রধান অভিযুক্তের পাশাপাশি বাকি সঙ্গীদের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি জারি রাখলেও, বামনেতার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভাবনীয় তদন্তের নির্দেশে রাজ্য রাজনীতিতে জোর রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন