নয়াদিল্লি: বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তিদের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারতীয় দল।
ফিফা উইন্ডোতে জোড়া প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও উরুগুয়ে এবং শক্তিশালী পানামার বিপক্ষে ম্যাচ খেলছে ভারত। কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে সদ্য ফুটবল বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামাকে ১-১ গোলে আটকে রাখার পর এখন ভারতীয় শিবিরে একটাই নাম, ‘সেলেকাও’।
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের মুখোমুখি হতে চলেছে নীল-বাঘেরা। আর সেই মেগা ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে কী ভাবে রোখা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিন্তাভাবনা ও ব্লু-প্রিন্ট সাজানো শুরু করে দিয়েছেন ভারতীয় ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি।
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের এই রণকৌশলের কথা জানান ২৬ বছরের এই তারকা সেন্টার-ব্যাক। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় বিজয় ভার্গিস, অভিষেক টেকচাম কিংবা আকাশ মিশ্রদের চেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে এই ফুটবলার। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আনোয়ারকেই যুবভারতীতে রক্ষণের দায়িত্ব সামলাতে হবে।
পানামা ম্যাচে বিপক্ষের একের পর এক বিষাক্ত আক্রমণ প্রতিহত করে ভারতীয় ডিফেন্সকে একাই খাড়া রেখেছিলেন তিনি। তবে পানামার সঙ্গে যে ব্রাজিলের তুলনা চলে না, তা খুব ভালো করেই মানছেন বর্তমানে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মাঠ কাঁপানো এই ডিফেন্ডার।
আনোয়ারের কথায়, "পানামার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ড্র নিশ্চিতভাবেই আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পানামার পারফরম্যান্স দিয়ে ব্রাজিল ম্যাচ বিচার করা ভুল হবে। ব্রাজিলের আক্রমণে অগাধ বৈচিত্র রয়েছে। ওদের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে একদম শেষ বাঁশি পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক ও ফোকাসড থাকতে হবে। সামান্য চাপ নিলেই কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে।" পানামা ম্যাচে কোথায় খামতি ছিল, তা নিয়ে হেড কোচের সঙ্গে বসে ভিডিও বিশ্লেষণ করে ব্রাজিল ম্যাচের আগে নিজেদের শুধরে নিতে চান তিনি।
ঘরের মাঠ যুবভারতীতে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিরুদ্ধে নামার রোমাঞ্চই আলাদা বলে মনে করেন আনোয়ার। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে বহুবার সল্টলেকের এই গ্যালারি কাঁপানো স্টপার বলেন, "কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরাই আমাদের আসল শক্তি। তাঁদের উপস্থিতিতে বিশ্ব ফুটবলের এই হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে আমরা তৈরি।"
এই ধরনের মেগা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজনের জন্য এআইএফএফ-কে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর সংযোজন, "বিশ্ব ফুটবলের এমন শীর্ষ দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ সচরাচর আসে না। এই ম্যাচগুলোর মাধ্যমে শুধু আমরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাই অর্জন করব না, বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ফুটবলের পরিচিতিও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।"
ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের মতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের সামলানোর আগে সতীর্থদের ওপরই শতভাগ ভরসা রাখছেন আনোয়ার। মানসিক চাপ না নিয়ে সতীর্থদের সাহায্য করার বার্তা দিয়ে ‘পাঞ্জাব কা পুত্তর’ সাফ জানিয়ে দিলেন, ব্রাজিলের তারকাদের আঁটসাঁট পিঞ্জরে আটকে দিতে তাঁরা সম্মিলিতভাবে লড়াই করতে তৈরি।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন