বারাসত: ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে ঘর বাঁধার স্বপ্নে পরিবারকে পর করে দিয়েছিলেন দমদমের তরুণী রিয়া দেবনাথ। কিন্তু সেই স্বপ্নের মেয়াদ ছিল মাত্র তিন মাস। মঙ্গলবার রাতে বারাসতের শালবাগান এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ওই নববধূর রহস্যজনক নিথর দেহ। মেয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজনের দাবি, রিয়াকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জামাই প্রসেনজিৎ বসুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বারাসত থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, দমদমের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী রিয়া দেবনাথ পরিবারের অমতে গিয়ে প্রেমিকের গলায় মালা দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের পর রিয়া জানতে পারেন, প্রসেনজিতের আগে আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সত্য গোপন রেখেই তাঁকে বিয়ে করা হয়। মদ্যপ অবস্থায় প্রতিদিন মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো রিয়াকে। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ মায়ের কাছে ফোন করে নিজের বিপদের কথা জানান তরুণী। খবর পেয়ে দমদম থেকে ছুটে আসেন রিয়ার মা। কিন্তু বারাসতের বাড়িতে পৌঁছে দরজার কাছে বিছানার ওপর ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মেয়েকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ঘটনার পরই রিয়ার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎকে আটক করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই তা স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, আরও এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকল বর্ধমানের কাঁটাপুকুর দুর্গা মন্দির এলাকা। অতিরিক্ত পণের দাবিতে ৩৫ বছরের গৃহবধূ সুইটি কুমারীকে মারধর করে দোতলার ছাদ থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুইটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর বর্ধমান থানার পুলিশ মৃতার স্বামী ও ভাসুরকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। দুটি পৃথক ঘটনাতেই বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেল।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন