শান্তিপুর : বেপরোয়া মন্তব্য ও বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে ফের আইনি তোপের মুখে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘গুন্ডা’ বলে আখ্যা দেওয়া এবং তাঁর সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে এ বার তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হলো নদিয়া জেলায়। মন্তব্যের রেশ ধরে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল ভারতীয় জনতা পার্টি। শুধু অভিযোগ দায়েরই নয়, মুখ্যমন্ত্রী পদের মানহানি করার অপরাধে অবিলম্বে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের দাবিতেও সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সর্বসমক্ষে এমন কুরুচিকর মন্তব্যের পর থানার দরজায় অভিযোগ জমা পড়ায় নতুন করে প্রবল চাপের মুখে তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান সাংসদ।
ঘটনার সূত্রপাত শান্তিপুরে তৃণমূলের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যে সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর শান্তিপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর বাসভবনে মমতাপন্থী তৃণমূলের নদিয়া জেলা কমিটির প্রথম বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইটি সেল এবং যুব সংগঠনের একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
মূলত আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নিচু তলার কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভাষণ দেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশে চাঙ্গা বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরকে আক্রমণের সলতে পাকান তিনি।
তবে আসল বিতর্কের সৃষ্টি হয় দলীয় বৈঠক শেষে সাংসদ যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। অভিযোগ, শান্তিপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি মেজাজ হারিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষায় তোপ দাগেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর ও আপত্তিকর ভাষায় ‘গুন্ডা’ বলে সম্বোধন করার পাশাপাশি তাঁর সমস্ত আর্থিক সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি। শাসকদলের সাংসদের মুখ থেকে এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের শব্দ প্রয়োগের ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয় নদিয়া জেলা বিজেপির এক প্রতিনিধিদল। তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। বিজেপির অভিযোগ, একজন সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে 'গুণ্ডা' বলা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং স্পষ্টতই মানহানিকর। এর মাধ্যমে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ও রাজ্য প্রশাসনের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি, পুলিশকে অবিলম্বে এই বিষয়ে এফআইআর রুজু করে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক ভাবে ব্যাকফুটে থাকা ঘাসফুল শিবিরের জন্য এই ঘটনা নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতে গিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের ফাঁদে পড়ে যেভাবে থানার খাতায় নাম তুলতে হলো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাতে নদীয়া জেলা তো বটেই, সমগ্র রাজ্য রাজনীতিতে কল্যাণের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপের পারদ যে আরও চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন