কলকাতা: রবিবার ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় ঘটে গেল এক চরম হাড়হিম করা ঘটনা।
ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে দুষ্কৃতীদের অবাধ তাণ্ডব, লুটপাট এবং শেষে প্রমাণ লোপাট করতে শয্যাশায়ী যুবককে নৃশংসভাবে খুন! রবিবাসরীয় দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার বাগুইআটির রঘুনাথপুর এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিহত যুবকের নাম বলরাম রাজবংশী (৩১)।
পুলিশ সূত্রে খবর, যুবককে বাঁচতে দেওয়ার কোনও সুযোগই রাখা হয়নি। তাঁর কপালে ও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। প্রতিবেশীরা যাতে বিন্দুমাত্র টের না পান বা কোনও সাড়াশব্দ বাইরে না আসে, তার জন্য বাড়ির পোষ্য কুকুরটিকেও পাশের একটি ঘরে বন্ধ করে রেখেছিল আততায়ীরা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির রঘুনাথপুরে বাবা, মা ও দাদার সঙ্গেই থাকতেন ৩১ বছর বয়সী বলরাম। গত দু’বছর ধরে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন।
একই সঙ্গে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনও ছিলেন তিনি। রবিবার সকাল ৭টা নাগাদ প্রতিদিনের মতো কর্মসূত্রে বাড়ির সকলেই বাইরে বেরিয়ে যান। বলরামের মা যান পরিচারিকার কাজে, আর তাঁর বাবা ও দাদা বেরিয়ে পড়েন মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে। ফলে বাড়িতে একাই ছিলেন চলাফেরায় অক্ষম বলরাম এবং তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী পোষ্য সারমেয়টি।
দুপুর গড়াতেই কাজের শেষে বাড়ি ফেরেন বলরামের মা। বাইরে থেকে মূল গেটের তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই তাঁর পা আটকে যায় চরম আতঙ্কে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে নারকীয় দৃশ্য। ঘরের বিছানায় পড়ে রয়েছে ছেলের নিথর রক্তাক্ত দেহ।
কপাল ও মাথা থেঁতলানো অবস্থায় রক্তে ভেসে যাচ্ছে বিছানা। একই সঙ্গে পুরো ঘরের আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড, আলমারির দরজা খোলা, জামাকাপড় মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিছানার ওপর পড়ে রয়েছে সোনাদানার কয়েকটি খালি বাক্স।
পরিজনদের দাবি, আলমারিতে থাকা প্রায় দু’লক্ষ টাকা নগদ অর্থ এবং বিপুল মূল্যের সোনার গয়না লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। আশ্চর্যজনকভাবে, বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হানার সময়ে প্রতিবেশীরা কোনও চিৎকার বা পোষ্য কুকুরের ডাক শুনতে পাননি। পরে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের বিভ্রান্ত করতে এবং নিজেদের কাজ মসৃণ করতে পোষ্যটিকে চতুরতার সঙ্গে পাশের ঘরে আটকে রেখেছিল আততায়ীরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাগুইআটি থানার পুলিশ বাহিনী। নিহতের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে লুটপাটের উদ্দেশ্যে হানা দিয়েছিল দুষ্কৃতী দলটি। বাড়িতে ঢুকে শয্যাশায়ী বলরামকে দেখে ফেলে তারা। পরবর্তীতে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বা প্রমাণ লোপাট করতেই চরম নৃশংসতার সঙ্গে অসহায় ওই যুবককে পিটিয়ে বা থেঁতলে খুন করা হয়।
ঘরের আলমারি চাবি দিয়ে খোলা হয়েছিল নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছিল, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতীরা ঢোকা ও বেরোনোর সময় কী কৌশল ব্যবহার করেছিল, তা বুঝতে রঘুনাথপুর ও আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রবিবারের ভরদুপুরে এমন দুঃসাহসিক ও নৃসংশ ঘটনার পর সমগ্র বাগুইআটি জুড়ে তীব্র আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ দুষ্কৃতীদের খোঁজে চারদিকে তল্লাশি চালাচ্ছে।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন