কলকাতা: থিমের জৌলুস আর পুজোর আনন্দের মাঝেই নামল গভীর শোকের ছায়া। সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কেঁপে উঠেছে রাজ্য তথা দেশ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় শিশু ও মহিলা সহ মোট ১৯ জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত হয়ে বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু মানুষ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে পুলিশ এই ঘটনায় ১২ জনকে আটক করে জেরা শুরু করেছে।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ৭টা ৪০ মিনিট। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মণ্ডপের মাইকে কিছু একটা ঘোষণার পরেই হুড়োহুড়ি ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনস্রোতের চাপে বেরোনোর মুখে পদপিষ্ট হয়ে একের পর এক দর্শনার্থী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ পরিণত হয় নরকে। খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাতেই কলকাতা মেডিকেল কলেজে গিয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মানুষের জীবনের চেয়ে কোনও থিম বড় হতে পারে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দমকল ও প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা মেনে মণ্ডপসজ্জা করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রবিবারেও কলকাতার বিশিষ্ট পুজো মণ্ডপগুলি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ দল পরিদর্শনে নামে। ঘটনাস্থলটি বর্তমানে পুরোপুরি ঘিরে রেখেছে পুলিশ বাহিনী।
এই মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের ঘোষণা করেছে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনের জন্য গ্রুপ-ডি পদে সরকারি চাকরির ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আহতদের সমস্ত চিকিৎসার খরচের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার রাতের দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), মিঠু মণ্ডল (৪৫), আকৃতি কুমারী (১৭), বর্ণালী হালদার (১৭), শুভম শঙ্কর (৩৩), আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫), টগর বেজ (৩৭), তানিয়া বিশ্বাস (১৮), কল্পনা জানা (৪৬), বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালী প্রামাণিক (২৫), প্রিয়া সমাদ্দার (১৮), প্রাঞ্জল সরকার (১৩)। দিলীপ ঘোষ (৫৯), দীপালি ঘোষ। উল্লেখ্য, দিলীপ ও দীপালি সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। মৃত্যু হয়েছে বিহারের একই পরিবারের দুই সদস্য অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তবের (৭)।
মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তায় কোথায় গলদ ছিল, তা এখন সিট-এর তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন