কলকাতা: দুবাই পালিয়ে আত্মগোপন করার বিরাট ছক এক ঝটকায় ব্যর্থ করে দিল পুলিশ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জাল গুটিয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করা হলো পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার প্রিন্স খানের ভাই বান্টি খানকে। ধানবাদ পুলিশের স্পেশাল টিম ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অপারেশনে বুধবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে থাকা দাদা প্রিন্স খানের কাছে পৌঁছনোর শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা করেছিল এই দাগি অপরাধী। কিন্তু বিমানে ওঠার আগেই তাকে ঘিরে ফেলে জালে তুলে নেন তদন্তকারীরা।
ধৃত বান্টি খানের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, খুন, অপহরণ এবং বেআইনি অস্ত্র ব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ধানবাদের একাধিক থানায় তার নামে দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলছিল পরোয়ানা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বান্টি খানকে ২০২২ সালের মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের একটি রেলস্টেশন থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছিল রাজ্য পুলিশ। দীর্ঘ চার বছর কারাবাসের পর চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল সে। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে শুধরে যাওয়ার বদলে ফের পুরনো অপরাধের সাগরেই ডুব দেয় বান্টি। শুরু করে নতুন করে তোলাবাজি ও অসাধু কার্যকলাপ।
পুলিশের চোখ এড়িয়ে দেশ ছাড়ার জন্য সম্পূর্ণ ভুয়া পাসপোর্ট ও ভিসার বন্দোবস্ত করেছিল এই কুখ্যাত অপরাধী। ভুয়ো নথিপত্র সম্বল করেই কলকাতা হয়ে দুবাই উড়াল দেওয়ার ঘুঁটি সাজিয়েছিল সে। কিন্তু তার এই অন্তিম চক্রান্তের খবর আগেই পৌঁছে যায় ধানবাদ পুলিশের গোপন সূত্রে। খবর পাওয়া মাত্রই আর দেরি না করে কলকাতা পুলিশের সহায়তায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি শুরু করেন ঝাড়খণ্ড পুলিশের আধিকারিকরা। বান্টি বিমানবন্দর চত্বরে পা রাখা মাত্রই চারপাশে ওত পেতে থাকা পুলিশকর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন। ধৃতের কাছ থেকে একাধিক জাল নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
ধানবাদ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, অপরাধ জগতের জাল আরও বিস্তৃত করতে ও বিদেশে নিজের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই দুবাই যাওয়ার তোড়জোড় করছিল বান্টি। আন্তর্জাতিক স্তরে গ্যাং পরিচালনা করা দাদা প্রিন্স খানের কাছে আশ্রয় নেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। আপাতত বান্টিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একের পর এক দফায় চরম জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। এই আন্তর্জাতিক গ্যাংয়ের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত এবং জাল পাসপোর্ট তৈরিতে কোন চক্র সাহায্য করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন