নয়াদিল্লি: বাইরের জগতের তৈরি করা কৃত্রিম লড়াই বা সুস্থ প্রতিযোগিতা?
তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে দলে নিজের অবস্থান নিয়ে উঠতে থাকা কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এক নিমেষেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২২ বলে ৫৭ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে শুধু দলকে জেতাননি, একই সঙ্গে ১৫ বছরের উঠতি তারকা বৈভবকে ঘিরে চলতে থাকা যাবতীয় বিতর্ককেও বাইউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের প্রাক্তন অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে মুখোমুখি হয়ে এক ঝরঝরে ও স্পষ্ট বার্তায় সঞ্জু সাফ জানিয়ে দিলেন, বৈভব বা অভিষেক শর্মার সঙ্গে তাঁর এই প্রতিযোগিতার গল্পটা কেবলই বাইরের লোকজনের কল্পনামাত্র, ড্রেসিংরুমে এর কোনও অস্তিত্বই নেই।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মার সঙ্গে ৮৮ রানের এক বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে ভারতের জয় সুনিশ্চিত করেন সঞ্জু। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বৈভবের মতো উদীয়মান ব্যাটারের কারণে দলে নিজের জায়গা অনিশ্চিত কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাইক্রোফোন হাতে একদম সাবলীল মেজাজে মুখ খোলেন স্যামসন।
তিনি বলেন, "বাইরের দেশের মানুষ বা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বৈভব আর অভিষেককে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হতেই পারে। কিন্তু আমাদের মূল পরিচয়, আমরা একই দলের সদস্য এবং দেশের হয়ে খেলছি। দলের জয়ই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। 'ও কেন সুযোগ পেল, আমি কেন পেলাম না'—এমন নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা নিয়ে এই স্তরে পারফর্ম করা যায় না।"
তবে সামাজিক মাধ্যম এবং প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারদের লাগাতার মন্তব্য যে ক্রিকেটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে, তা এক প্রকার স্বীকারই করে নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বৈভবকে একাদশে নেওয়ার জন্য সঞ্জু বা অভিষেকের মধ্যে কাউকে বাদ দেওয়ার যে সওয়াল প্রাক্তনরা করে যাচ্ছেন, তা নিয়ে রসিকতার সুরে সঞ্জু জানান, তিনি সাধারণত নিজেকে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে দূরে রাখতে ভালবাসেন। তাঁর কথায়, "আমি চেষ্টা করি ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখতে! কিন্তু মাঝেমধ্যে ওয়াই-ফাই চালু হয়ে যায় আর নানা ধরণের মন্তব্য চোখে পড়ে যায়। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা যখন কিছু বলেন, সেটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।"
নিজের এই খোলামেলা বক্তব্যে আবেগের বাঁধও ভাঙেন সঞ্জু। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রিকেটার হলেও তাঁরা রক্তমাংসের মানুষ। "আগে এসব বাইরের আলোচনা খুব কষ্ট দিত। আমরা তো কেউ রোবট বা মেশিন নই যে বলব কিছুই স্পর্শ করে না! অবশ্যই প্রভাব ফেলে। কিন্তু অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাতে হয়। এখন ব্যাট করার সময় যদি ভাবি যে আউট হলেই আবার ট্রোলিং শুরু হবে, তবে খোলা মনে শট খেলা অসম্ভব। তাই এখন আমি নিজের মনকে শান্ত রাখি," মন্তব্য স্যামসনের।
চলতি সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত রাখলেও, ২২ গজে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই যে জবাব দিতে প্রস্তুত সঞ্জু, তা তিনি রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় আরেকবার প্রমাণ করে দিলেন।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন