ময়মনসিংহ: পদ্মাপাড়ে থামছেই না সনাতনীদের রক্তঝরা! এবার বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো এক নিখোঁজ হিন্দু জুয়েলারি ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ। অমানবিক ও বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে আসতেই ওপার বাংলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি গয়নার দোকানের যৌথ মালিক ছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আচমকাই উধাও হয়ে যান। এই নৃসংসবতার পর সোশাল মিডিয়ায় মৌলবাদ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বোমা ফাটিয়েছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ি এলাকার একটি জলাশয়ে ভেসে থাকা নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রামটি উদ্ধার করে এবং ভেতর থেকে বস্তাবন্দি পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। নিহতের প্যান্টের পকেটে থাকা ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেনের সূত্র ধরে উদ্ধার হয় আসল পরিচয়। পরবর্তীতে নিরঞ্জনের স্ত্রী সুমিতা রানি সূত্রধর ও ছেলে জয় সূত্রধর থানায় গিয়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে খুন করা হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোটা ঘটনার কড়া সমালোচনা করে ফেসবুকে সরব হয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সব হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে? আমি জানি না কী করে হিন্দুরা বাস করছে ওই জেহাদিস্তানে। কোনো সুস্থ ও সভ্য মানুষ তো ওই হিংস্র ও অসভ্যদের দেশে বাস করতে পারবে না।"
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক নৃশংস হামলা, মন্দির ভাঙচুর ও খুন-রাহাজানির ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠিত হলেও সনাতনীদের জীবনের নিরাপত্তা যে এখনও চরম ঝুঁকির মুখে, ময়মনসিংহের এই নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে তা পুনরায় প্রমাণিত হলো। এই ঘটনায় ওপার বাংলাজুড়ে সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মনে ফের তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন