নয়াদিল্লি: সময় চেয়েও শেষ রক্ষা হলো না। সংসদীয় রাজনীতিতে আরও চরম কোনঠাসা ও কোণঠাসা হয়ে পড়লেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নবগঠিত দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে কোনো অতিরিক্ত সময় দিল না স্পিকার অফিস। উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধে চরম ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হলো। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই তাঁদের নিজেদের চূড়ান্ত জবাব ও অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঝুলে থাকা এই হাইভোল্টেজ মামলার জল এবার গড়াচ্ছে দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে, যার ফলে সাংসদ পদ খোয়ানোর মারাত্মক আশঙ্কায় দিন গুনছেন বিদ্রোহী নেতারা।
তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই গঠন করলেও সংসদীয় খাতা-কলমে এখনও তাঁদের তৃণমূলেরই সাংসদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কারণ তাঁদের নতুন দলের কোনো আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা মেলেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ওই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেন এবং পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে লোকসভার স্পিকারকে এনসিপিআই নেতাদের পদ খারিজ সংক্রান্ত আর্জির দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
এর আগে স্পিকার অফিসের পক্ষ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এনসিপিআই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আইনি যুক্তি সাজাতে আরও এক মাসের অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানান। তবে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পরপরই লোকসভার স্পিকার অফিস থেকে অত্যন্ত সক্রিয়তা দেখানো হয় এবং বাড়তি সময় চাওয়ার আর্জি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়। এনসিপিআই সাংসদদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাঁদের হাতে মাত্র আর দু'সপ্তাহ সময় রয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই তাঁদের সমস্ত ব্যাখ্যা লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। ৮ অক্টোবরের পর স্পিকার অফিস কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে কাকলি-সুদীপদের ভবিষ্যৎ।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন