Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Jhargram News: ছবি তুলতে গিয়ে বিপর্যয়! ঝাড়গ্রামে জলপ্রপাতে পড়ে গেল সন্তান, বাঁচাতে গিয়ে স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Jhargram News: ছবি তুলতে গিয়ে বিপর্যয়! ঝাড়গ্রামে জলপ্রপাতে পড়ে গেল সন্তান, বাঁচাতে গিয়ে স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা
ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন মা। নিজস্ব ছবি

ঝাড়গ্রাম : পুজোর মুখে উইকএন্ডে পাহাড়ি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে এক নিমেষে ট্র্যাজেডি! ঝাড়গ্রামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে পাহাড়ি নদীর ক্ষিপ্র স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা। 

শনিবার দুপুরে রাজদীপ দত্ত, স্ত্রী প্রীতি এবং তাঁদের সাত বছরের সন্তান প্রিয়ঙ্কনের আনন্দ সফর চোখের পলকে বদলে গেল বিষাদে। সন্তানকে টেনে তুলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারলেও তীব্র স্রোতের গ্রাস থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হলেন স্বামী। চোখের সামনে স্ত্রীকে ভেসে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ পুরো পর্যটক দল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কলকাতা থেকে ৩৬ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে শনিবার ঝাড়গ্রামে ঘুরতে এসেছিলেন তাঁরা। 

ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হোটেলে ওঠার পর শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে যায় দলটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, প্রপাতটির একদম কাছে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রিয়ঙ্কনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছিলেন রাজদীপ ও প্রীতি দত্ত। ছবি তোলা শেষে ফেরার মুহূর্তেই ঘটে চরম বিপর্যয়। অসাবধানতাবশত পা পিছলে প্রপাতের ওপর থেকে সোজা মূল জলাশয়ে পড়ে যায় সাত বছরের শিশুটি।

সন্তানকে বিপন্ন দেখে মুহূর্তের দ্বিধা না করে প্রপাতের উত্তাল স্রোতে ঝাঁপ দেন মা প্রীতি দত্ত। স্ত্রীকে ও সন্তানকে বাঁচাতে একই সঙ্গে জলে ঝাঁপ মারেন রাজদীপও। রাজদীপ সাঁতার জানতেন, ফলে জীবনের বাজি রেখে কোনও ক্রমে সন্তান প্রিয়ঙ্কনকে আঁকড়ে ধরে পাড়ে টেনে তুলতে সক্ষম হন তিনি। 

কিন্তু ততক্ষণে পাহাড়ি নদীর গভীর ও তীব্র জলের তোড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। সাঁতার জানা সত্ত্বেও প্রীতিকে জলের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চোখের নিমেষে ভাসতে ভাসতে নদীর গভীর অতলে তলিয়ে যান তিনি।

ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলপাহাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। 

ঝাড়গ্রামের জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, “ঘাগরা জলপ্রপাতে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পিতা তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করতে পারলেও মাকে বাঁচানো যায়নি। ডুবুরি ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রীতি দত্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।” 

তবে পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত অন্ধকার নেমে আসায় রাতের দিকে তল্লাশি অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে বলে খবর। মুহূর্তের অসাবধানতায় বারুইপুরের দত্ত পরিবারে নেমে আসা এই ঘন মেঘে স্তব্ধ ঘাগরা প্রপাতের পুরো পর্যটন চত্বর।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #Jhargram #GhagraFalls #Belpahari #Tragedy #Baruipur #WestBengalPolice #TouristAccident #BreakingNews #BengaliNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


Jhargram News: ছবি তুলতে গিয়ে বিপর্যয়! ঝাড়গ্রামে জলপ্রপাতে পড়ে গেল সন্তান, বাঁচাতে গিয়ে স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ঝাড়গ্রাম : পুজোর মুখে উইকএন্ডে পাহাড়ি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে এক নিমেষে ট্র্যাজেডি! ঝাড়গ্রামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে পাহাড়ি নদীর ক্ষিপ্র স্রোতে তলিয়ে গেলেন মা। শনিবার দুপুরে রাজদীপ দত্ত, স্ত্রী প্রীতি এবং তাঁদের সাত বছরের সন্তান প্রিয়ঙ্কনের আনন্দ সফর চোখের পলকে বদলে গেল বিষাদে। সন্তানকে টেনে তুলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারলেও তীব্র স্রোতের গ্রাস থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হলেন স্বামী। চোখের সামনে স্ত্রীকে ভেসে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ পুরো পর্যটক দল।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কলকাতা থেকে ৩৬ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে শনিবার ঝাড়গ্রামে ঘুরতে এসেছিলেন তাঁরা। ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হোটেলে ওঠার পর শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে যায় দলটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, প্রপাতটির একদম কাছে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রিয়ঙ্কনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছিলেন রাজদীপ ও প্রীতি দত্ত। ছবি তোলা শেষে ফেরার মুহূর্তেই ঘটে চরম বিপর্যয়। অসাবধানতাবশত পা পিছলে প্রপাতের ওপর থেকে সোজা মূল জলাশয়ে পড়ে যায় সাত বছরের শিশুটি।সন্তানকে বিপন্ন দেখে মুহূর্তের দ্বিধা না করে প্রপাতের উত্তাল স্রোতে ঝাঁপ দেন মা প্রীতি দত্ত। স্ত্রীকে ও সন্তানকে বাঁচাতে একই সঙ্গে জলে ঝাঁপ মারেন রাজদীপও। রাজদীপ সাঁতার জানতেন, ফলে জীবনের বাজি রেখে কোনও ক্রমে সন্তান প্রিয়ঙ্কনকে আঁকড়ে ধরে পাড়ে টেনে তুলতে সক্ষম হন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে পাহাড়ি নদীর গভীর ও তীব্র জলের তোড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। সাঁতার জানা সত্ত্বেও প্রীতিকে জলের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চোখের নিমেষে ভাসতে ভাসতে নদীর গভীর অতলে তলিয়ে যান তিনি।ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলপাহাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ঝাড়গ্রামের জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, “ঘাগরা জলপ্রপাতে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পিতা তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করতে পারলেও মাকে বাঁচানো যায়নি। ডুবুরি ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রীতি দত্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।” তবে পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত অন্ধকার নেমে আসায় রাতের দিকে তল্লাশি অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে বলে খবর। মুহূর্তের অসাবধানতায় বারুইপুরের দত্ত পরিবারে নেমে আসা এই ঘন মেঘে স্তব্ধ ঘাগরা প্রপাতের পুরো পর্যটন চত্বর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত