Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Calcutta High Court: নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! আর্জি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্টের পথ দেখালেন বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Calcutta High Court: নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! আর্জি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্টের পথ দেখালেন বিচারপতি
কলকাতা হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

কলকাতা: রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' (SIT) ভেঙে দেওয়ার আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার শুনানির চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে একগুচ্ছ প্রশ্নে জর্জরিত করেন এবং মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে ডিলিস্ট বা তালিকাচ্যুত করে দেন। একই সাথে হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ পেতে হলে সিবিআই-কে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টেরই দ্বারস্থ হতে হবে।

মঙ্গলবার এজলাসে শুনানির শুরুতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) ধীরজ ত্রিবেদী সিট ভেঙে দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল পেশ করেন। সিবিআই-এর দাবি ছিল, বিগত পাঁচ বছর ধরে চলা এই মেগা দুর্নীতির তদন্তের বড় অংশ শেষ হয়েছে এবং সিংহভাগ মূল মামলায় চার্জশিট জমা পড়ে গিয়েছে। তাই পৃথক সিট বজায় না রেখে বাকি সাধারণ তদন্তের দায়িত্ব সংস্থার স্থায়ী দুর্নীতিদমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হোক। সেই সাথে সিটের সাথে যুক্ত বহু আধিকারিকের পদোন্নতি আটকে থাকা এবং অনেকের অবসর নেওয়ার বিষয়টিও আদালতের সামনে পেশ করা হয়।

তবে সিবিআই-এর এই যুক্তিতে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্ত এখন ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে? এতদিন ধরে আপনারা যে বিষয়ে তদন্ত করছিলেন, তাতে আদৌ ঠিক কী বেরিয়ে এল? এত বড় নিয়োগ দুর্নীতির ভবিষ্যৎ কী এবং এত বছরের তদন্তে আসল ফল কী দাঁড়াল?” সিট ভেঙে দেওয়া বা আধিকারিকদের ছাড়পত্র দেওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শিক্ষক ও পুর নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক মূল মামলার শুনানির ওপর ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতা‌দেশ বহাল রয়েছে।

এমন জটিল আইনি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একক বেঞ্চ কীভাবে নির্দেশ জারি করতে পারে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, হাইকোর্ট এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। সিবিআই যদি সিট ভেঙে ফেলতে চায়, তবে তাদের সুপ্রিম কোর্টেই আবেদন জানাতে হবে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল এখন কোন দিকে গড়ায় এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।


বিষয় : Supremecourt CalcuttaHighCourt HiddenStoriesNews RECRUITMENTSCAM WBNews CBISIT JusticeAmritaSinha

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Calcutta High Court: নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই-কে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! আর্জি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্টের পথ দেখালেন বিচারপতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্যে প্রাথমিক, উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৈরি বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' (SIT) ভেঙে দেওয়ার আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার শুনানির চলাকালীন বিচারপতি অমৃতা সিনহা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে একগুচ্ছ প্রশ্নে জর্জরিত করেন এবং মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে ডিলিস্ট বা তালিকাচ্যুত করে দেন। একই সাথে হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে কোনও নির্দেশ পেতে হলে সিবিআই-কে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টেরই দ্বারস্থ হতে হবে।মঙ্গলবার এজলাসে শুনানির শুরুতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) ধীরজ ত্রিবেদী সিট ভেঙে দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল পেশ করেন। সিবিআই-এর দাবি ছিল, বিগত পাঁচ বছর ধরে চলা এই মেগা দুর্নীতির তদন্তের বড় অংশ শেষ হয়েছে এবং সিংহভাগ মূল মামলায় চার্জশিট জমা পড়ে গিয়েছে। তাই পৃথক সিট বজায় না রেখে বাকি সাধারণ তদন্তের দায়িত্ব সংস্থার স্থায়ী দুর্নীতিদমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হোক। সেই সাথে সিটের সাথে যুক্ত বহু আধিকারিকের পদোন্নতি আটকে থাকা এবং অনেকের অবসর নেওয়ার বিষয়টিও আদালতের সামনে পেশ করা হয়।তবে সিবিআই-এর এই যুক্তিতে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তদন্ত এখন ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে? এতদিন ধরে আপনারা যে বিষয়ে তদন্ত করছিলেন, তাতে আদৌ ঠিক কী বেরিয়ে এল? এত বড় নিয়োগ দুর্নীতির ভবিষ্যৎ কী এবং এত বছরের তদন্তে আসল ফল কী দাঁড়াল?” সিট ভেঙে দেওয়া বা আধিকারিকদের ছাড়পত্র দেওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শিক্ষক ও পুর নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক মূল মামলার শুনানির ওপর ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতা‌দেশ বহাল রয়েছে।এমন জটিল আইনি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একক বেঞ্চ কীভাবে নির্দেশ জারি করতে পারে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, হাইকোর্ট এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। সিবিআই যদি সিট ভেঙে ফেলতে চায়, তবে তাদের সুপ্রিম কোর্টেই আবেদন জানাতে হবে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল এখন কোন দিকে গড়ায় এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত