Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Durga Puja 2026: আদালতের জটিলতা কাটিয়ে ঢাকের বাদ্যি, খুঁটিপুজোতে শুরু বাগবাজারে পুজোর আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Durga Puja 2026: আদালতের জটিলতা কাটিয়ে ঢাকের বাদ্যি, খুঁটিপুজোতে শুরু বাগবাজারে পুজোর আমেজ
অপেক্ষার আর কয়েকদিন। তৈরি হচ্ছে বাগবাজার। ছবি : ফেসবুক

কলকাতা: অনিশ্চয়তার কালো মেঘ কাটিয়ে অবশেষে যেন একফালি রোদঝলমলে শরতের নীল আকাশ নেমে এল বাগবাজারের পুজোপ্রাঙ্গণে। হাতে বাকি আর এক মাসেরও কম সময়। বৃষ্টিভেজা রবিবারের সকালে আচমকা বেজে উঠল ঢাকের বোল, গমগম করে উঠল ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ। হাইকোর্টের আইনি জট কাটিয়ে নতুন কমিটির হাত ধরে ১০৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সার্বজনীনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাড়ম্বর খুঁটিপুজো। এর সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুভারম্ভ হলো উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রধান এই বনেদি দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।

থিম পুজোর জোয়ারে গা না ভাসিয়ে শতাব্দী প্রাচীন সাবেকিয়ানা আর রাজকীয় বনেদিয়ানাকে আগলে রাখাই বাগবাজারের মাতৃপ্রতিমার আসল পরিচয়। এই পুজো কেবল একটি উৎসব নয়, বরং কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গর্ব। তাই চলতি বছর পুজো কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি টানাপোড়েন এবং পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ছড়াতেই মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল অগণিত ভক্ত ও শহরবাসীর। কিন্তু হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে সেই জট কাটতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে উত্তর কলকাতা।

ঘটনার সূত্রপাত পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। দুই গোষ্ঠীর তীব্র টানাপোড়েনের জেরে আদালতের নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের কড়া নজরদারিতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর তৈরি হয় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই সমান ৩৩টি করে ভোট পান। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই, গৌতম নিয়োগী ও ভাস্কর নিয়োগী। দু’জনেই সমান ভোট পাওয়ায় জয়ী প্রার্থী নির্ধারণ অধরা থেকে যায় এবং পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও ১২ জন কার্যকরী সদস্যের মধ্যে ৪ জন সদস্য ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও 'টাই' হয়।

পরবর্তীকালে সভাপতির কাস্টিং ভোট এবং দুই পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন এক ভাই। একই সাথে ভোটকেন্দ্রে অশান্তির অভিযোগও ওঠে। নিম্ন আদালত ঘুরে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ আবেদনকারী রবিশঙ্কর সেনগুপ্তের আবেদন খারিজ করে দেন এবং জানিয়ে দেন যে বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সঠিক। মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ হতেই এক লহমায় কেটে যায় সংশয়ের মেঘ।

রায় বেরোনোর পর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে চাননি উদ্যোক্তারা। পুজোর ঠিক ২৮ দিন আগে ঐতিহ্য মেনে উদযাপিত হলো খুঁটিপুজো। বাগবাজার সার্বজনীন পুজো কমিটির এক সদস্য ক্ষোভ ও আনন্দের মিশ্র সুরে জানান, “১০৮ বছরের ঐতিহ্য ও গরিমা অক্ষুণ্ণ থাকবেই। পুজো হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা থাকলেও আমাদের মনে কোনও অনিশ্চয়তা ছিল না। দুই গোষ্ঠীর মতপার্থক্য আদালতের রায়ে মিটে গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও চিরাচরিত সাবেকিয়ানা বজায় রেখেই মহা সাড়ম্বরে পুজো হবে। চতুর্থীর দিনই জাঁকজমকপূর্ণভাবে মণ্ডপের দ্বার উন্মোচন করা হবে।”

উল্লেখ্য, ১৯১৯ সালে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে প্রথম শুরু হয়েছিল এই পুজো। পরবর্তীতে স্থান পরিবর্তিত হয়ে পশুপতি বোস লেন ও বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকা হয়ে এটি স্থায়ী রূপ পায় বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসবে। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন পুজোটি বিশাল রূপ নেয় এবং ১৯৩২ সালে 'সোসাইটি অ্যাক্ট'-এ নথিভুক্ত হয়। অতীতে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে মসৃণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও, দীর্ঘ ১২ বছর পর এ বছর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

তবে সমস্ত জটিলতা, আইনি লড়াই এবং সংশয় পেছনে ফেলে আবার ঢাকের কাঠিতে সুর উঠেছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী আবার সাবেক ধাঁচের একচালা প্রতিমাতেই মণ্ডপে ফিরছেন উমা। রবিবারের খুঁটিপুজোর ঢাকের আওয়াজ জানিয়ে দিয়ে গেল, মেঘ কেটে গেছে, বাগবাজার এখন পুজোমুখর!

বিষয় : HiddenStoriesNews #BagbazarSarbojanin #DurgaPuja2026 #KolkataDurgaPuja #KhutiPuja #BagbazarPuja #KolkataNews #HeritagePuja #BengaliNews #PujaVibes #FestiveSeason

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Durga Puja 2026: আদালতের জটিলতা কাটিয়ে ঢাকের বাদ্যি, খুঁটিপুজোতে শুরু বাগবাজারে পুজোর আমেজ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: অনিশ্চয়তার কালো মেঘ কাটিয়ে অবশেষে যেন একফালি রোদঝলমলে শরতের নীল আকাশ নেমে এল বাগবাজারের পুজোপ্রাঙ্গণে। হাতে বাকি আর এক মাসেরও কম সময়। বৃষ্টিভেজা রবিবারের সকালে আচমকা বেজে উঠল ঢাকের বোল, গমগম করে উঠল ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ। হাইকোর্টের আইনি জট কাটিয়ে নতুন কমিটির হাত ধরে ১০৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সার্বজনীনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাড়ম্বর খুঁটিপুজো। এর সঙ্গেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুভারম্ভ হলো উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রধান এই বনেদি দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।থিম পুজোর জোয়ারে গা না ভাসিয়ে শতাব্দী প্রাচীন সাবেকিয়ানা আর রাজকীয় বনেদিয়ানাকে আগলে রাখাই বাগবাজারের মাতৃপ্রতিমার আসল পরিচয়। এই পুজো কেবল একটি উৎসব নয়, বরং কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গর্ব। তাই চলতি বছর পুজো কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি টানাপোড়েন এবং পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা ছড়াতেই মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল অগণিত ভক্ত ও শহরবাসীর। কিন্তু হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে সেই জট কাটতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে উত্তর কলকাতা।ঘটনার সূত্রপাত পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। দুই গোষ্ঠীর তীব্র টানাপোড়েনের জেরে আদালতের নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের কড়া নজরদারিতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর তৈরি হয় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই সমান ৩৩টি করে ভোট পান। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই, গৌতম নিয়োগী ও ভাস্কর নিয়োগী। দু’জনেই সমান ভোট পাওয়ায় জয়ী প্রার্থী নির্ধারণ অধরা থেকে যায় এবং পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও ১২ জন কার্যকরী সদস্যের মধ্যে ৪ জন সদস্য ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও 'টাই' হয়।পরবর্তীকালে সভাপতির কাস্টিং ভোট এবং দুই পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন এক ভাই। একই সাথে ভোটকেন্দ্রে অশান্তির অভিযোগও ওঠে। নিম্ন আদালত ঘুরে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ আবেদনকারী রবিশঙ্কর সেনগুপ্তের আবেদন খারিজ করে দেন এবং জানিয়ে দেন যে বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সঠিক। মঙ্গলবার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ হতেই এক লহমায় কেটে যায় সংশয়ের মেঘ।রায় বেরোনোর পর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে চাননি উদ্যোক্তারা। পুজোর ঠিক ২৮ দিন আগে ঐতিহ্য মেনে উদযাপিত হলো খুঁটিপুজো। বাগবাজার সার্বজনীন পুজো কমিটির এক সদস্য ক্ষোভ ও আনন্দের মিশ্র সুরে জানান, “১০৮ বছরের ঐতিহ্য ও গরিমা অক্ষুণ্ণ থাকবেই। পুজো হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা থাকলেও আমাদের মনে কোনও অনিশ্চয়তা ছিল না। দুই গোষ্ঠীর মতপার্থক্য আদালতের রায়ে মিটে গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও চিরাচরিত সাবেকিয়ানা বজায় রেখেই মহা সাড়ম্বরে পুজো হবে। চতুর্থীর দিনই জাঁকজমকপূর্ণভাবে মণ্ডপের দ্বার উন্মোচন করা হবে।”উল্লেখ্য, ১৯১৯ সালে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে প্রথম শুরু হয়েছিল এই পুজো। পরবর্তীতে স্থান পরিবর্তিত হয়ে পশুপতি বোস লেন ও বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকা হয়ে এটি স্থায়ী রূপ পায় বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসবে। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন পুজোটি বিশাল রূপ নেয় এবং ১৯৩২ সালে 'সোসাইটি অ্যাক্ট'-এ নথিভুক্ত হয়। অতীতে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে মসৃণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও, দীর্ঘ ১২ বছর পর এ বছর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়েছিল।তবে সমস্ত জটিলতা, আইনি লড়াই এবং সংশয় পেছনে ফেলে আবার ঢাকের কাঠিতে সুর উঠেছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী আবার সাবেক ধাঁচের একচালা প্রতিমাতেই মণ্ডপে ফিরছেন উমা। রবিবারের খুঁটিপুজোর ঢাকের আওয়াজ জানিয়ে দিয়ে গেল, মেঘ কেটে গেছে, বাগবাজার এখন পুজোমুখর!

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত